Wednesday, September 14, 2011

পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর-এর ফাযায়িল-ফযীলত

পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর-এর ফাযায়িল-ফযীলত
লিখেছেন: মুহিউদ্দীন


লাইলাতুন শব্দের অর্থ হচ্ছে রাত বা রজনী। আর ক্বদর শব্দের অর্থ হলো, মহিমান্বিত বা মর্যাদামণ্ডিত।এ রাতটি আমাদের এ উপমহাদেশে শবে ক্বদর হিসেবে মশহুর।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আমি ক্বদরের রাত্রিতে কুরআন শরীফ নাযিল করি। আপনি তো জানেন ক্বদরের রাত্রির ফযীলত কি? ক্বদরের রাত্রি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি ফেরেশতাসহ অবতীর্ণ হন মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশে সকল বিষয়ের প্রতি সালাম বর্ষণ করেন ছুবহে ছাদিক পর্যন্ত।”

আর হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি একদল ফেরেশতাসহ যমীনে অবতীর্ণ হন।অতঃপর দাঁড়ানো, বসা সকলের প্রতি ছলাত বর্ষণ করেন।”
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও ইখলাছের সাথে রমাদ্বান মাসের রোযা রাখে তার পূর্বের সমুদয় গুনাহ মাফ করা হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও ইখলাছের সাথে রমাদ্বান শরীফ-এর রাতে ইবাদতে কাটাবে তারও পূর্বের গুনাহ মাফ করা হবে এবং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও ইখলাছের সাথে ক্বদর রাত্রি ইবাদতে কাটাবে তারও পূর্বকৃত সমুদয় গুনাহখতা মাফ করা হবে। (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ) হাদীছ শরীফ-এ আরো বর্ণিত হয়েছে, উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, তোমরা পবিত্র রমাদ্বান শরীফ-এর শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতে লাইলাতুল ক্বদর বা শবে ক্বদর তালাশ করো। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
ইমামে আযম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ২৭ রমাদ্বান শরীফ-এর রাত্রিকে অর্থাৎ ২৬ তারিখ দিবাগত রাতকে শবে ক্বদর হিসেবে অধিক প্রাধান্য দেয়ার কারণে উনার মাযহাবের অনুসারীগণ যদিও ২৭ তারিখ রাতে বিশেষভাবে শবে ক্বদর তালাশ করে থাকেন তবে এটা সুন্নত যে, পবিত্র রমাদ্বান শরীফ-এর শেষ দশকের প্রত্যেক বিজোড় রাতেই অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখ শবে ক্বদর তালাশ করা।

হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, “পাঁচ রাতে নিশ্চিতভাবে দোয়া কবুল হয়- ১. রজব মাসের পহেলা রাত, ২. বরাতের রাত, ৩. ক্বদরের রাত ও ৫. দুই ঈদের দুই রাত্র।” আর শবে ক্বদর দোয়া কবুলের পাঁচ রাত্রির মধ্যে অন্যতম রাত্রি। এ রাত্রিতে আল্লাহ পাক উনার কাছে বান্দা যা আরজি করে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে তাই দিয়ে থাকেন। কেননা আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, তোমরা আমার নিকট দোয়া করো আমি তোমাদের দোয়া কবুল করবো। তাই প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, রমাদ্বান শরীফ-এর শেষ দশ দিনের প্রতি বিজোড় রাত্রিতে জাগ্রত থেকে শবে ক্বদর তালাশ করা। রাত্রিতে জাগ্রত থেকে বেশি বেশি তওবা ইস্তিগফার করে ইবাদত বন্দেগীতে কাটানো এবং সকল মুসলমানের জন্য দোয়া করা। যার মনে যতো আরজি রয়েছে তা আল্লাহ পাক উনার দরবারে পেশ করা। কেননা হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ পাক উনার নিকট চায় না বা দোয়া করেনা আল্লাহ পাক তিনি তার উপর অসন্তুষ্ট হন। কাজেই সকলের উচিত আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টির জন্য, ইসলামের উপর, ঈমানের উপর ইস্তিক্বামত থাকার জন্য সর্বোপরি দুনিয়া এবং আখিরাতের সর্বপ্রকার কল্যাণের জন্য অন্তর থেকে দোয়া করা। অবশ্যই আল্লাহ পাক তিনি এই মহিমান্বিত রাত্রির সম্মানার্থে তা দান করবেনই করবেন। এটা মহান আল্লাহ পাক উনার ওয়াদা। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কালামে পাকে ইরশাদ করেন, আল্লাহ পাক তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে উনার খাছ বান্দা হিসেবে মনোনীত করে থাকেন এবং যে ব্যক্তি উনার দিকে রুজু হয় তিনি তাকে হিদায়েত দান করেন। (সূরা শুরা : আয়াত শরীফ ১৩)
মহান আল্লাহ পাক যেন তিনি উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং যামানার ইমাম উনাদের উছীলায় আমাদের সবাইকে শবে ক্বদর-এর রাত্রির বরকত অর্জন করার তাওফীক দান করেন। আল্লাহুম্মা আমীন।

Source: www.sabujbanglablog.net

মহিমান্বিত রজনী "পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর"

মহিমান্বিত রজনী "পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর"

লিখেছেনঃ আমিন আহম্মদ, তারিখঃ শনিবার, ২৭/০৮/২০১১

শেষ হয়ে যাচ্ছে রমযানুল মোবারক। অতি গুরুত্বপূর্ন একটি মাস। এ মাসেই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। রমযান মাসে সিয়াম সাধনায় মহান আল্লাহর অনন্ত অসীম রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়। তাই তো রমযানের আগমনে আল্লাহ প্রেমিক বান্দার অন্তরে এক অনাবিল আনন্দধারা প্রবাহিত হয়। সকল ঈমানদারেরা শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে এই পবিত্র মাসটি অতিবাহিত করে। মুসলিম উম্মাহর জন্য রমযান অত্যন্ত কাঙিক্ষত ও প্রাপ্তির মাস।
ক্বদর শব্দের অর্থ : মহাত্ম বা সম্মান, এই মহাত্ম ও সম্মানের কারণে একে লাইলাতুল ক্বদর, তথা মহিমান্বিত রাত বলা হয়। বারটি মাসের মধ্যে ফযিলতপূর্ণ মাস হল রমযান মাস। এ মোবারক মাসে রাব্বুল আলামীন লাইলাতুল ক্বদর নামে এমন এক মহামূল্যবান ও মহিমান্বিত রজনী আমাদের দান করেছেন, যা ইতিপূর্বে কোন উম্মাতকে দেয়া হয়নি। লাইলাতুল ক্বদর এমন একটি রজনী যা হাজার মাস (ইবাদাত) অপেক্ষা উত্তম।

এ সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ বলেছেন:
নিশ্চয় আমি এটি নাজিল করেছি বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়, আমার নির্দেশে। নিশ্চয় আমি রাসূল প্রেরণকারী। তোমার রবের কাছ থেকে রহমত হিসেবে; নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। যিনি আসমানসমূহ, জমীন ও এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর রব; যদি তোমরা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণকারী হও। তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু দেন। তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পিতৃপুরুষদের রব। (সুরা দুখান। আয়াত :৩-৮)

মহান আল্লাহ তাআলা এ রাতের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন, যেহেতু এতে অত্যাধিক কল্যান, বরকত ও মর্যাদা রয়েছে। যথা এ বরকতময় রাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যে কুরআন সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য নিরুপনকারী।
ক্বদরের রাত্রের ফযিলত ও মহাত্ম সম্পর্কে কুরআনুল করিমে সূরাতুল ক্বদর নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাযিল হয়েছে। আল্লাহ বলেন : (১) নিশ্চয়ই আমি একে (পবিত্র কুরআনকে) নাযিল করেছি শবে ক্বদরে। (২) শবে ক্বদর সম্বন্ধে আপনি কী জানেন? (৩) শবে ক্বদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। (৪) এই রাত্রিতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। (৫) এটা নিরাপত্তা যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সুরা ক্বদর)
শবে ক্বদরের ফযিলত ও মহাত্ম সম্পর্কে কুরআন পাকের এই বর্ণনাই যথেষ্ট। এ কারণে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্বদর রজনীর ফযিলত সম্পর্কে তেমন কিছু বলেন নাই। তবে উহা কোন মাসে কোন তারিখে হতে পারে এবং উহা কারও নসীব হলে সে তখন আল্লাহর নিকট কি চাইবে সে সম্পর্কে তিনি উপদেশ দিয়েছেন।
* আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে ক্বদরের রাতে ইবাদত করে তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (বুখারী ও মুসলিম)
* আয়েশা (রাঃ) বলেন, <strong>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা শবে ক্বদর তালাশ কর। রমযানের শেষ দশকের বে-জোড় রাত্রিতে। (বুখারী)
* আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "রমযানের শেষ দশক শুরু হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা রাত জাগতেন, নিজের পরিবারবর্গকেও জাগাতেন এবং (আল্লাহর ইবাদতে) খুব বেশি সাধনা ও পরিশ্রম করতেন।" (বুখারী ও মুসলিম)
* আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, "তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশ দিন এতেকাফ করতেন এবং বলতেন, তোমরা রমযানের শেষ দশ রাতে শবে ক্বদর সন্ধান কর।" (বুখারী ও মুসলিম)
* আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, "একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের প্রথম দশদিন এতেকাফ করলেন। এ সময় একবার মাথা বের করে বললেন, আমি ক্বদরের রাত্রি তালাশ করতে গিয়ে প্রথম দশকে এতেকাফ করেছি, অতঃপর মধ্যম দশকেও এতেকাফ করেছি। অতঃপর স্বপ্নে আমার নিকট কেউ এসে বলল ক্বদর রজনী শেষ দশকে। অতএব যে ব্যক্তি আমার সাথে প্রথম দশকে এতেকাফ করেছে, সে যেন শেষ দশকেও এতেকাফ করে। নিশ্চয় উহা আমাকে স্বপ্নে দেখান হয়েছিল। কিন্তু পরে উহা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মনে পড়ে আমি ঐ রাত্রির ফজরে নিজেকে পানি আর কাদার মধ্যে সিজদা করতে দেখেছি।
অতএব, তোমরা উহা শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিতেই তালাশ করবে।

* আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, সেই রাতেই আকাশ ভারিবর্ষণ করল। মসজিদ তখন ছাপরা ছিল, অতএব, ছাদ থেকে পানি পড়ল। তখন আমার দুচোখ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখল, যে তাঁর কপালে পানি ও কাদার দাগ লেগেছে। আর তা ছিল একুশ তারিখের সকাল, তবে আবদুল্লাহ ইবনে উনাইসের বর্ণনায় রয়েছে- তেইশ তারিখের সকাল।" (বুখারী ও মুসলিম)
ব্যাখ্যা : উপরোক্ত হাদিসের দ্বারা বুঝা গেল শবে ক্বদর প্রত্যেক বৎসর একই তারিখে হয় না। তবে সকল বর্ণনাকারীর একমত রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে হয়।
* আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, "আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি ক্বদরের রাত খুঁজে পাই, তাহলে আমি ওই রাতে কী বলবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন, তুমি বলবে- (আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুব্বুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নী) অর্থ: হে আল্লাহ তুমি অবশ্যই ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা পছন্দ করো, কাজেই আমাকে ক্ষমা করো।" (তিরমিযী)

লাইলাতুল ক্বদরের মর্যাদা, বৈশিষ্ট্য ও ফযীলাত:
(১) এ রাতে আল্লাহ তা‘আলা পুরা কুরআন কারীমকে লাউহে মাহফুয থেকে প্রথম আসমানে নাযিল করেন। তাছাড়া অন্য আরেকটি মত আছে যে, এ রাতেই কুরআন নাযিল শুরু হয়। পরবর্তী ২৩ বছরে বিভিন্ন সূরা বা সূরার অংশবিশেষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঘটনা ও অবস্থার প্রেক্ষিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র উপর অবতীর্ণ হয়।
(২) এ এক রজনীর ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।
(৩) এ রাতে পৃথিবীতে অসংখ্য ফেরেশতা নেমে আসে এবং তারা তখন দুনিয়ার কল্যাণ, বরকত ও রহমাত বর্ষণ করতে থাকে।
(৪) এটা শান্তি বর্ষণের রাত। এ রাতে ইবাদত গুজার বান্দাদেরকে ফেরেশতারা জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তির বাণী শুনায়।
(৫) এ রাতের ফাযীলত বর্ণনা করে এ রাতেই একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাযিল হয়। যার নাম সূরা কদর।
(৬) এ রাতে নফল সালাত আদায় করলে মুমিনদের অতীতের সগীরা গুনাহগুলো মাফ করে দেয়া হয়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াব লাভের আশায় কদরের রাতে নফল সালাত আদায় ও রাত জেগে ইবাদত করবে আল্লাহ তার ইতোপূর্বের সকল সগীরা (ছোট) গুনাহ ক্ষমা করেদেন। (বুখারী)

যে রাতটি লাইলাতুল ক্বদর হবে সেটি বুঝার কিছু আলামত:
১. ক্বদরের রাত্রি তিমিরাচ্ছন্ন হবে না।
২. নাতিশীতোষ্ণ হবে। ( না গরম না শীত এমন )
৩. মৃদু বায়ু প্রবাহিত হবে।
৪. উক্ত রাতে মু'মিনগণ কিয়ামুল লাইল বা ইবাদত করে অন্যান্য রাত অপেক্ষা অধিক তৃপ্তি বোধ করবে।
৫. হয়তো বা আল্লাহ তা'আলা কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে উহা স্বপ্নে দেখাবেন। (দেখুন : ইবনে খুযায়মা-২১৯০, ইবনে হিব্বান, মুসনাদে আহমদ)
৬. ঐ রাতে বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে। (বুখারী-২০২১)
৭. সকালে হালকা আলোক রশ্নিসহ সূর্যোদয় হবে, পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায়। (মুসলিম-৭৬২)

এই রাতে আমাদের প্রিয় নবী (সঃ) কি কি ইবাদত করতেন এবং আমরা কি কি ইবাদত করতে পারি:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইবাদতের অবস্থা ছিল নিম্নরূপ :

১. প্রথম ২০ রাত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণ রাত জাগরণ করতেন না। কিছু সময় ইবাদত করতেন, আর কিছু অংশ ঘুমিয়ে কাটাতেন। কিন্তু রমাযানের শেষ দশ রাতে তিনি বিছানায় একেবারেই যেতেন না। রাতের পুরো অংশটাই ইবাদত করে কাটাতেন।

সে সময় তিনি কুরআন তিলাওয়াত, সলাত আদায় সদাকা প্রদান, যিকর, দু‘আ, আত্মসমালোচনা ও তাওবাহ করে কাটাতেন। আল্লাহর রহমাতের আশা ও তার গজবের ভয়ভীতি নিয়ে সম্পূর্ণ খুশুখুজু ও বিনম্রচিত্তে ইবাদতে মশগুল থাকতেন।

২. হাদীসে এসেছে সে সময় তিনি শক্ত করে তার লুঙ্গি দ্বারা কোমর বেধে নিতেন। এর অর্থ হল, রাতগুলোতে। তাঁর সমস্ত শ্রম শুধু ইবাদতের মধ্যেই নিমগ্ন ছিল। নিজে যেমন অনিদ্রায় কাটাতেন তাঁর স্ত্রীদেরকেও তখন জাগিয়ে দিতেন ইবাদত করার জন্য।

৩. ক্বদরের রাতের ইবাদতের সুযোগ যাতে হাতছাড়া হয়ে না যায় সেজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ দশদিনের পুরো সময়টাতে ইতেকাফরত থাকতেন। (মুসলিম- ১১৬৭)

মহিমান্বিত লাইলাতুল ক্বদরে আমরা যে যে ইবাদত করতে পারি:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে এ রাত কাটাতেন এর পূর্ণ অনুসরণ করাই হবে আমাদের প্রধান টার্গেট।
এ লক্ষ্যে আমাদের নিুবর্ণিত কাজগুলো করা আবশ্যক :
(ক) নিজে রাত জেগে ইবাদত করা এবং নিজের অধীনস্ত ও অন্যান্যদেরকেও জাগিয়ে ইবাদতে উদ্বুদ্ধ করা।
(খ) লম্বা সময় নিয়ে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ পড়া। এসব সালাতে কিরাআত ও রুকু-সিজদা লম্বা করা। রুকু থেকে উঠে এবং দুই সিজদায় মধ্যে আরো একটু বেশী সময় অতিবাহিত করা, এসময় কিছু দু‘আ আছে সেগুলে পড়া।
(গ) সিজদার মধ্যে তাসবীহ পাঠ শেষে দু‘আ করা। কেননা সিজদাবনত অবস্থায় মানুষ তার রবের সবচেয়ে নিকটে চলে যায়। ফলে তখন দু‘আ কবুল হয়।
(ঘ) বেশী বেশী তাওবা করবে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়বে। ছগীরা কবীরা গোনাহ থেকে মাফ চাইবে। বেশী করে শির্কী গোনাহ থেকে খালেছ ভাবে তাওবা করবে। কারণ ইতিপূর্বে কোন শির্ক করে থাকলে নেক আমল তো কবুল হবেই না, বরং অর্জিত অন্য ভাল আমলও বরবাদ হয়ে যাবে। ফলে হয়ে যাবে চিরস্থায়ী জাহান্নামী।
(ঙ) কুরআন তিলাওয়াত করবে। অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ কুরআন অধ্যয়নও করতে পারেন। তাসবীহ তাহলীল ও যিক্র-আযকার করবেন। তবে যিকর করবেন চুপিসারে, নিরবে ও একাকী এবং কোন প্রকার জোরে আওয়ায করা ছাড়া।

এভাবে যিকর করার জন্যই আল্লাহ কুরআনে বলেছেন :
“সকাল ও সন্ধ্যায় তোমার রবের যিকর কর মনে মনে বিনয়ের সঙ্গে ভয়ভীতি সহকারে এবং জোরে আওয়াজ না করে। এবং কখনো তোমরা আল্লাহর যিকর ও স্মরণ থেকে উদাসীন হয়োনা।” (আরাফ : ২০৫)
অতএব, দলবেধে সমস্বরে জোরে জোরে উচ্চ স্বরে যিক্র করা বৈধ নয়। এভাবে সম্মিলিত কোন যিকর করা কুরআনেও নিষেধ আছে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তা করেন নি।
যিকরের শব্দগুলো হল: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ইত্যাদি।
(চ) একাগ্রচিত্তে দু‘আ করা। বেশী বেশী ও বার বার দু‘আ করা। আর এসব দু‘আ হবে একাকী ও বিনম্র চিত্তে কবুল হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে। দু‘আ করবেন নিজের ও আপনজনদের জন্য. জীবিত ও মৃতদের জন্য, পাপমোচন ও রহমত লাভের জন্য, দুনিয়ার শান্তি ও আখিরাতের মুক্তির জন্য।
(ছ) পাপ মোচনসহ পার্থিব ও পরকালীন সার্বিক মুক্তি ও কল্যাণের জন্যে বিনয়ী ভাবে একাগ্রচিত্তে দু'আ কবুলের প্রত্যাশা নিয়ে দু'আ করবেন। নিম্নের দু'আ বিশেষভাবে পাঠ করবেন, "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুব্বুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নী অর্থ: “ হে আল্লাহ! তুমি তো ক্ষমার আধার, আর ক্ষমা করাকে তুমি ভালবাস। কাজেই তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। (তিরমিযী)
নিঃসন্দেহে ঐ বরকতপূর্ণ রাতটি যে ব্যক্তি অবহেলায় বা অলসতায় অবমূল্যায়ন করল, এর যথার্থ গুরুত্বারোপ করল না, সে সমূহকল্যাণ থেকে নিজকে বিরত রাখল।
আল্লাহ আমাদের সকলকে এরাতের বরকত, ফযিলত ও উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন।

লাইলাতুল কদর (প্রশ্নোত্তর)

প্রশ্ন ১৩৯ : লাইলাতুল কদরের মর্যাদা, বৈশিষ্ট্য ও ফযীলাত জানতে চাই।
উত্তর :

(১) এ রাতে আল্লাহ তা‘আলা পুরা কুরআন কারীমকে লাউহে মাহফুয থেকে প্রথম আসমানে নাযিল করেন। তাছাড়া অন্য আরেকটি মত আছে যে, এ রাতেই কুরআন নাযিল শুরু হয়। পরবর্তী ২৩ বছরে বিভিন্ন সূরা বা সূরার অংশবিশেষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঘটনা ও অবস্থার প্রেক্ষিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র উপর অবতীর্ণ হয়।
(২) এ এক রজনীর ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।
(৩) এ রাতে পৃথিবীতে অসংখ্য ফেরেশতা নেমে আসে এবং তারা তখন দুনিয়ার কল্যাণ, বরকত ও রহমাত বর্ষণ করতে থাকে।
(৪) এটা শান্তি বর্ষণের রাত। এ রাতে ইবাদত গুজার বান্দাদেরকে ফেরেশতারা জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তির বাণী শুনায়।
(৫) এ রাতের ফাযীলত বর্ণনা করে এ রাতেই একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাযিল হয়। যার নাম সূরা কদর।
(৬) এ রাতে নফল সালাত আদায় করলে মুমিনদের অতীতের সগীরা গুনাহগুলো মাফ করে দেয়া হয়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াব লাভের আশায় কদরের রাতে নফল সালাত আদায় ও রাত জেগে ইবাদত করবে আল্লাহ তার ইতোপূর্বের সকল সগীরা (ছোট) গুনাহ ক্ষমা করেদেন। (বুখারী)

প্রশ্ন ১৪০ : কোন রাতটি লাইলাতুল কদর?

উত্তর : এ প্রশ্নের উত্তর স্বরূপ হাদীসে নিুবর্ণিত বাণী রয়েছে :
[১] এ রাতটি রমযান মাসে। আর এ রাতের ফযীলত কিয়ামত পর্যন্ত জারী থাকবে।
[২] এ রাতটি রমাযানের শেষ দশকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :


“রমাযানের শেষ দশদিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর।” (বুখারী)

[৩] আর এটি রমযানের বেজোড় রাতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :


“তোমরা রমাযানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ কর।” (বুখারী)

[৪] এ রাত রমযানের শেষ সাত দিনে হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :


“যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর (কদরের রাত) অন্বেষণ করতে চায়, সে যেন রমাযানের শেষ সাত রাতের মধ্য তা অন্বেষণ করে।”

[৫] রমাযানের ২৭ শে রজনী লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী।
ক. হাদীসে আছে :


উবাই ইবনে কাব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন যে, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি যতদূর জানি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যে রজনীকে কদরের রাত হিসেবে কিয়ামুল্লাইল করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা হল রমাযানের ২৭ তম রাত। (মুসলিম)

(খ) আব্দুল্লাহ বিন ‘উমার থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :


“যে ব্যক্তি কদরের রাত অর্জন করতে ইচ্ছুক, সে যেন তা রমাযানের ২৭শে রজনীতে অনুসন্ধান করে। (আহমাদ)

[৬] কদরের রাত হওয়ার ব্যাপারে সম্ভাবনার দিক থেকে পরবর্তী দ্বিতীয় সম্ভাবনা হল ২৫ তারিখ, তৃতীয় হল ২৯ তারিখে। চতুর্থ হল ২১ তারিখ। পঞ্চম হল ২৩ তারিখের রজনী।

[৭] সর্বশেষ আরেকটি মত হল- মহিমান্বিত এ রজনীটি স্থানান্তরশীল। অর্থাৎ প্রতি বৎসর একই তারিখে বা একই রজনীতে তা হয় না এবং শুধুমাত্র ২৭ তারিখেই এ রাতটি আসবে তা নির্ধারিত নয়। আল্লাহর হিকমত ও তাঁর ইচ্ছায় কোন বছর তা ২৫ তারিখে, কোন বছর ২৩ তারিখে, কোন বছর ২১ তারিখে, আবার কোন বছর ২৯ তারিখেও হয়ে থাকে।

প্রশ্ন ১৪১ : কেন এ রাতকে অস্পষ্ট করে গোপন রাখা হয়েছে। এটা স্পষ্ট করে নির্দিষ্ট করে বলা হয় নি কেন?

উত্তর : এ রাতের পুরস্কার লাভের আশায় কে কত বেশী সক্রিয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এবং কত বেশী সচেষ্ট হয়, আর কে নাফরমান ও আলসে ঘুমিয়ে রাত কাটায় সম্ভবতঃ এটা পরখ করার জন্যই আল্লাহ তা‘আলা এ রাতকে গোপন ও অস্পষ্ট করে রেখেছেন।

প্রশ্ন ১৪২ : যে রাতটি লাইলাতুল কদর হবে সেটি বুঝার কি কোন আলামত আছে?

উত্তর : হাঁ, সে রাতের কিছু আলামত হাদীসে বর্ণিত আছে। সেগুলো হল :


(১) রাতটি গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না।
(২) নাতিশীতোষ্ণ হবে। অর্থাৎ গরম বা শীতের তীব্রতা থাকবে না।
(৩) মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে।
(৪) সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক তৃপ্তিবোধ করবে।
(৫) কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে আল্লাহ স্বপ্নে হয়তো তা জানিয়েও দিতে পারেন।
(৬) ঐ রাতে বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে।
(৭) সকালে হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে। যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মত।

(সহীহ ইবনু খুযাইমাহ- ২১৯০, বুখারী০ ২০২১, মুসলিম- ৭৬২ নং হাদীস)

প্রশ্ন ১৪৩ : রমাযানের শেষ দশ রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী ধরণের ইবাদত করতেন?

উত্তর : তাঁর ইবাদতের অবস্থা ছিল নিম্নরূপ :

১. প্রথম ২০ রাত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণ রাত জাগরণ করতেন না। কিছু সময় ইবাদত করতেন, আর কিছু অংশ ঘুমিয়ে কাটাতেন। কিন্তু রমাযানের শেষ দশ রাতে তিনি বিছানায় একেবারেই যেতেন না। রাতের পুরো অংশটাই ইবাদত করে কাটাতেন।
সে সময় তিনি কুরআন তিলাওয়াত, সলাত আদায় সদাকা প্রদান, যিকর, দু‘আ, আত্মসমালোচনা ও তাওবাহ করে কাটাতেন। আল্লাহর রহমাতের আশা ও তার গজবের ভয়ভীতি নিয়ে সম্পূর্ণ খুশুখুজু ও বিনম্রচিত্তে ইবাদতে মশগুল থাকতেন।

২. হাদীসে এসেছে সে সময় তিনি শক্ত করে তার লুঙ্গি দ্বারা কোমর বেধে নিতেন। এর অর্থ হল, রাতগুলোতে। তাঁর সমস্ত শ্রম শুধু ইবাদতের মধ্যেই নিমগ্ন ছিল। নিজে যেমন অনিদ্রায় কাটাতেন তাঁর স্ত্রীদেরকেও তখন জাগিয়ে দিতেন ইবাদত করার জন্য।

৩. কদরের রাতের ইবাদতের সুযোগ যাতে হাতছাড়া হয়ে না যায় সেজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ দশদিনের পুরো সময়টাতে ইতেকাফরত থাকতেন। (মুসলিম- ১১৬৭)

প্রশ্ন ১৪৪ : মহিমান্বিত লাইলাতুল কদরে আমরা কী কী ইবাদত করতে পারি?

উত্তর : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে এ রাত কাটাতেন এর পূর্ণ অনুসরণ করাই হবে আমাদের প্রধান টার্গেট। এ লক্ষ্যে আমাদের নিুবর্ণিত কাজগুলো করা আবশ্যক :

(ক) নিজে রাত জেগে ইবাদত করা এবং নিজের অধীনস্ত ও অন্যান্যদেরকেও জাগিয়ে ইবাদতে উদ্বুদ্ধ করা।
(খ) লম্বা সময় নিয়ে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ পড়া। এসব সালাতে কিরাআত ও রুকু-সিজদা লম্বা করা। রুকু থেকে উঠে এবং দুই সিজদায় মধ্যে আরো একটু বেশী সময় অতিবাহিত করা, এসময় কিছু দু‘আ আছে সেগুলে পড়া।
(গ) সিজদার মধ্যে তাসবীহ পাঠ শেষে দু‘আ করা। কেননা সিজদাবনত অবস্থায় মানুষ তার রবের সবচেয়ে নিকটে চলে যায়। ফলে তখন দু‘আ কবুল হয়।
(ঘ) বেশী বেশী তাওবা করবে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়বে। ছগীরা কবীরা গোনাহ থেকে মাফ চাইবে। বেশী করে শির্কী গোনাহ থেকে খালেছ ভাবে তাওবা করবে। কারণ ইতিপূর্বে কোন শির্ক করে থাকলে নেক আমল তো কবুল হবেই না, বরং অর্জিত অন্য ভাল আমলও বরবাদ হয়ে যাবে। ফলে হয়ে যাবে চিরস্থায়ী জাহান্নামী।
(ঙ) কুরআন তিলাওয়াত করবে। অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ কুরআন অধ্যয়নও করতে পারেন। তাসবীহ তাহলীল ও যিক্র-আযকার করবেন। তবে যিকর করবেন চুপিসারে, নিরবে ও একাকী এবং কোন প্রকার জোরে আওয়ায করা ছাড়া। এভাবে যিকর করার জন্যই আল্লাহ কুরআনে বলেছেন :
“সকাল ও সন্ধ্যায় তোমার রবের যিকর কর মনে মনে বিনয়ের সঙ্গে ভয়ভীতি সহকারে এবং জোরে আওয়াজ না করে। এবং কখনো তোমরা আল্লাহর যিকর ও স্মরণ থেকে উদাসীন হয়োনা।” (আরাফ : ২০৫)

অতএব, দলবেধে সমস্বরে জোরে জোরে উচ্চ স্বরে যিক্র করা বৈধ নয়। এভাবে সম্মিলিত কোন যিকর করা কুরআনেও নিষেধ আছে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তা করেন নি। যিকরের শব্দগুলো হল: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ইত্যাদি।

(চ) একাগ্রচিত্তে দু‘আ করা। বেশী বেশী ও বার বার দু‘আ করা। আর এসব দু‘আ হবে একাকী ও বিনম্র চিত্তে কবুল হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে। দু‘আ করবেন নিজের ও আপনজনদের জন্য. জীবিত ও মৃতদের জন্য, পাপমোচন ও রহমত লাভের জন্য, দুনিয়ার শান্তি ও আখিরাতের মুক্তির জন্য। তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ রাতে নিুের এ দু‘আটি বেশী বেশী করার জন্য উৎসাহিত করেছেন :

“ হে আল্লাহ! তুমি তো ক্ষমার আধার, আর ক্ষমা করাকে তুমি ভালবাস। কাজেই তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। (তিরমিযী)

Source: http://sorolpath.wordpress.com

পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর

পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর

‘লাইলাতুন’ শব্দের অর্থ হচ্ছে রাত বা রজনী। আর ‘ক্বদর’ শব্দের অর্থ হলো মহিমান্বিত বা মর্যাদাম-িত। এ রাতটি আমাদের এ উপমহাদেশে ‘শবে ক্বদর’ হিসেবে মশহূর। এ রাতটির ফযীলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি ইরশাদ ফরমান:

ليلة القدر خير من الف شهر.

অর্থ: “লাইলাতুল ক্বদর হচ্ছে হাজার মাস থেকে উত্তম।” সুবহানাল্লাহ! (সুরা ক্বদর : আয়াত শরীফ ২)
হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে:
عن عائشة عليها السلام قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم تحروا ليلة القدر فى الوتر من العشر الاواخر من رمضان.

অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, তোমরা পবিত্র রমাদ্বান শরীফ-এর শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতে শবে ক্বদর বা লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করো। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
শবে ক্বদর দুআ কবুলের পাঁচ রাত্রির মধ্যে অন্যতম রাত্রি। এই রাত্রিতে বান্দা আল্লাহ পাক উনার কাছে যা আরজি করে আল্লাহ পাক তাকে তাই দিয়ে থাকেন প্রয়োজন অনুসারে। বান্দার সকল দুআই এ রাত্রিতে আল্লাহ পাক তিনি কবুল করে থাকেন। কেননা আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন:
ادعونى استجبلكم
অর্থ: “তোমরা আমার নিকট দুআ করো আমি তোমাদের দুআ কবুল করবো।”
তাই প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, রমাদ্বান শরীফ-এর শেষ দশ দিনের প্রতি বিজোড় রাত্রিতে জাগ্রত থেকে লাইলাতুল ক্বদর বা শবে ক্বদর তালাশ করা। রাত্রিতে জাগ্রত থেকে বেশি বেশি তওবা ইস্তিগফার করে, ইবাদত-বন্দেগীতে কাটানো এবং সকল মুসলমানের জন্য দুআ করা। যার মনে যতো আরজি রয়েছে তা আল্লাহ পাক উনার দরবারে পেশ করা।
কেননা হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহ পাক উনার নিকট চায় না বা দুআ করেনা আল্লাহ পাক তার উপর অসন্তুষ্ট হন।” কাজেই সকলের উচিত আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টির জন্য, ইসলামের উপর, ঈমানের উপর ইস্তিক্বামত থাকার জন্য সর্বোপরি দুনিয়া এবং আখিরাতের সর্বপ্রকার কল্যাণের জন্য অন্তর থেকে দুআ করা।
অবশ্যই আল্লাহ পাক তাকে এই মহিমান্বিত রাত্রির সম্মানার্থে তা দান করবেনই করবেন। এটা আল্লাহ পাক উনার ওয়াদা।
বিঃদ্রঃ ইমামে আ’যম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি ২৭শে রমাদ্বান শরীফ-এর রাত্রিকে অর্থাৎ ২৬ তারিখ দিবাগত রাতকে শবে ক্বদর হিসেবে অধিক সম্ভাব্য বলার কারণে উনার মাযহাবের অনুসারীগণ যদিও ২৭ তারিখ রাতে বিশেষভাবে শবে ক্বদর তালাশ করে থাকেন তবে সুন্নত হলো পবিত্র রমাদ্বান শরীফ-এর শেষ দশকের প্রত্যেক বিজোড় রাতেই শবে ক্বদর তালাশ করা।

আমলসমূহ

লাইলাতুল ক্বদর-এ সুন্নত-নফল অনেক আমলই করা যায়। তবে বিশেষভাবে কয়েকটি আমল করা উচিত। তা হলো:

  • লাইলাতুল ক্বদর-এর নিয়তে ৪/৬/৮/১২ রাকাআত নামায পড়া।
  • দুরূদ শরীফ পাঠ করা।
  • ছলাতুত তাসবীহ-এর নামায আদায় করা।
  • যিকির-আযকার করা।
  • কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা
  • তাহাজ্জুদের নামায পড়া।
  • বেশি বেশি তওবা ইস্তিগফার এবং মুনাজাত করা। আল্লাহ পাক উনার কাছে রোনাজারি-কান্নাকাটি করা।
  • মীলাদ শরীফ পাঠ করত দুআ-মুনাজাত করা।

লাইলাতুল ক্বদর-এর নামাযের নিয়ত

نويت ان اصلى لله تعالى ركعتى صلوة اليلة القدر سنة رسول الله تعالى متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উছল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রকা’আতাই ছলাতিল লাইলাতিল ক্বদরি সুন্নাতু রসূলিল্লাহি তা’য়ালা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।
অর্থ: আমি ক্বিবলামুখী হয়ে আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে লাইলাতুল ক্বদর এর দু’রাকাআত সুন্নত নামাযের নিয়ত করছি- আল্লাহু আকবার।
Source: http://ahkaamu-rwamadwaanal-mubaarak.net

মহিমান্বিত রাত : লাইলাতুল ক্বদর (শুধু ২৭ রমাজান কে মানা কেন ঠিক নয়)।

মহিমান্বিত রাত : লাইলাতুল ক্বদর (শুধু ২৭ রমাজান কে মানা কেন ঠিক নয়)।

লিখেছেন josim eyameen ৩০ অগাস্ট ২০১০

• [লাইল=রাত]: সূর্যাস্ত থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত সময়কে বোঝায়|

• [ক্বদর=ক্ষমতা]: ক্বদর শব্দটি অনেকগুলো অর্থ বহন করে যেমন সম্মান,
শ্রদ্ধা, প্রশান্তি, বিচার এবং ক্ষমতা বা শক্তি| রমজানুল মুবারকের এই বিশেষ
রাতের নামের বিভিন্ন ব্যখ্যা দিয়েছেন বিভিন্ন আলেম ওলামাগণ| তেমনি কিছু
ব্যখ্যা এখানে তুলে ধরা হলো:

১. সম্মান, শ্রদ্ধা ও প্রশংসা:

এই ব্যখ্যাটি খুব স্পষ্ট এবং বোধগম্য কারণ এটি সেই রাত যে রাতে
আল-কুরআন নাযিল হওয়া শুরু হয়, এটিই সেই রাত যে রাতে নবী করিম সাল্লাল্লাহু
আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম নবুয়ত পান| কেউ কেউ বলেন যে ব্যক্তি এই রাতে আল্লাহর
কাছে একান্তভাবে অন্তর দিয়ে প্রার্থনা করে সে সম্মানিত হয় কারণ আল্লাহ
সুবহানা ওয়া তায়ালা তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন| এই এক রাতের ইবাদাত হাজার মাসের ইবাদাতের সমান কিংবা এর চেয়েও বেশি।(সুরা-ক্বদর)

দৃষ্টান্ত: মুসলিম হিসেবে আমাদের সম্মানবোধ করা উচিত কারণ এই রাতে
আল-কুরআন প্রেরিত হয়েছে এবং সর্বশেষ নবী(সা কে নবুয়ত দেয়া হয়েছে| আবার, এই
রাতেই জন্ম হয় এক নতুন জাতির(মুসলিম); আমরা যে জাতির গর্বিত অংশীদার|
কিন্তু....সত্যিই কি আমরা এই জাতির অংশীদার? সত্যিই কি আমরা মুসলিম? কি
অবস্থা আমদের ঈমানের? আমরাকি সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সকল দিক থেকে
ইসলাম কে জানছি? মানার চেষ্টা করছি? কখনো কি আল্লাহ কে ধন্যবাদ দিয়েছি এই
পবিত্র জাতির মাঝে আমাদের প্রেরণ করার জন্য? আমাদের চলাফেরা, উঠাবসা,
কথাবার্তা কি আমাদের বিনম্রতা প্রকাশ করে? আমরা কি লাইলাতুল ক্বদর এর মহত্ব
অনুভব করতে পারি? আমরা কি চাইনা সম্মানিত হতে? যদি সত্যিই চেয়ে থাকি
তাহলে আল্লাহ সুবহানা ওয়া তায়ালার কাছ থেকে এই রাতের থেকে সবটুকু ক্ষমা,
করুনা, দয়া আর মর্যাদা আদায় করে নেই শুধুমাত্র তার ইবাদাতের মাধ্যমে|

২. যা অর্জন করা কঠিন:

রমজানের ঠিক কোন দিনটি লাইলাতুল ক্বদর এটা মানুষের জ্ঞানের ভেতরে
দেয়া হয়নি; এটিকে অর্জন করার একমাত্র উপায় হলো শেষ দশ দিনের প্রতিটি বিজোর রাতে এর অন্বেষণ করা (বুখারি, মুসলিম)| বলা হয়ে থাকে যে এই রাতে পৃথিবী মালাইকা(ফেরেশতা)দের উপস্থিতি দ্বারাপূর্ণ হয়ে থাকে (সুরা ক্বদর)|

দৃষ্টান্ত: আমরা কোন জিনিসটাকে লুকিয়ে রাখতে চাই? সবচেয়ে দামি,
মূল্যবান জিনিসকে আমরা সবসময় সবার একটু আড়ালে রাখি; অন্যকথায় বলা যায় কোনো
কিছুকে লুকিয়ে রাখা তার অন্তর্নিহিত মূল্য বা তাৎপর্যকে নির্দেশ করে যেমন
আমরা সোনা-গহনা লুকিয়ে রাখি আলমারির মাঝে| ঠিক তেমনি এই মহিমান্বিত রাতকে
শেষ দশ রমজানের মাঝে লুকিয়ে রাখা হয়েছে আর যে এই রাতের সঠিক তাৎপর্যকে
অনুভব করে ও বোঝে সে অবশ্যই তার সবটুকু দিয়ে প্রতিটি রাতে এর অন্বেষণ করে ও
এই রাতের লুকানো গুপ্তধন খুঁজে বের করে আনে|

এই রাতের কিছু বৈশিষ্ট:
লাইলাতুল ক্বদর কখন হয়?
লাইলাতুল ক্বদর রমজানুল মুবারকের শেষ দশ রাতের মাঝে রয়েছে| নবী
করিম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন “আমি ক্বদরের রাতের
প্রত্যক্ষদর্শী, পরে এটি ঠিক কোন রাত ছিলো তা ভুলে যাই| তবে এটি (রমজানের)
শেষ দশ রাতের মাঝে সংঘটিত হয়|” (ইবনে হিব্বান)


রাতের কিছু লক্ষণ:
• এই রাত খুব শান্তপ্রকৃতির বা নিবিড়| নবী করিম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি
ওয়া সাল্লাম বলেন “এই মহিমান্বিত রাত খুব কোমল হয়, এটি খুব গরম বা ঠান্ডা
হয়না|” (ইবনে খুজাইমাহ, সহীহ)
• এই রাতে অসংখ্য ফেরেশতা নেমে আসেন যা গুনে শেষ করা সম্ভব না| নবী করিম
সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন “এই রাতে উপস্থিত ফেরেশতাদের
সংখ্যা গুনে শেষ করা যাবে না|” (ইবনে খুজাইমাহ, হাসান সহীহ)
• এই রাত খুব পরিস্কার ও আকাশের তারাসমূহ দৃশ্যমান হয়| নবী করিম
সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন “ মহিমান্বিত রাত একটি পরিস্কার
(নির্মল, মেঘমুক্ত, স্বচ্ছ) রাত্রি, এর চাঁদের আলোয় তারকারাজি উন্মোচিত
হয়|”(ইবনে হিব্বান)

পরবর্তী ভোরের কিছু লক্ষণ:

• লাইলাতুল ক্বদর এর পরবর্তী সকালের সূর্য “রক্তিম ও ন্বিস্তেজ”
হয়|(ইবনে খুজাইমাহ, সহীহ)
• সূর্যোদয়ের ব্যপারে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য
এক হাদিসে বলেন সূর্যোদয় “শ্বেতবর্ণ ও রশ্মি বিহীন হয়”|(মুসলিম) রশ্মি
বিহীন কথাটি “যইফ” বা দুর্বল হাদিস হিসেবে ধরা হয়|

এ রাতে কি কি করা উচিত:

• নামাজ পরা, বেশী বেশী দোয়া করা
• কুরআন তিলাওয়াত করা
• আল্লাহর জিকির করা
• আল্লাহর ইবাদতে পুরোপুরিভাবে মগ্ন হয়ে যাওয়া
• অন্যদের প্রতি সহানুভুতিশীল হওয়া, সবার জন্য দোয়া করা
• মসজিদ এ রাত কাটালে পরিস্কার থাকা এবং খেয়াল রাখা যাতে নিজের কারণে
অন্যকারোর কোনো কষ্ট না হয়
• কারো সাথে অমার্জিত আচরণ না করা

কি কি করা উচিত নয়:
• কথাবার্তা বা অন্য কিছুতে মগ্ন হয়ে সময় নষ্ট করা
• পাপ কাজে লিপ্ত হওয়া
• ঘুমিয়ে সারারাত কাটিয়ে দেয়া
• মসজিদ অপরিস্কার করা ও মসজিদে গোলযোগ করা

আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে এই রাতের পুরো মর্যাদা ও লাভ আদায়ের তৌফিক দান করুন|
আমীন|

মহিমান্বিত লাইলাতুল ক্বদর

মহিমান্বিত লাইলাতুল ক্বদর

- সায়মা রহমান কাশ্মীর

লাইলাতুল ক্বদর এমন এক মহিমান্বিত বরকতময় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ফজিলতপূর্ণ রাত্রি- যার শ্রেষ্ঠত্বের ওপর কুরআনে পূর্ণ একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে, যার নাম সূরা আল-ক্বদর।

লাইলাতুল ক্বদরের রাতটি যে বরকতময় তা কুরআন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলূল্লাহ্ (স.) রমজানের শেষ দশদিন মসজিদে অবস্থান করতেন। তিনি বলতেন : তোমরা রমজানের শেষ দশ দিন ক্বদরের রাত অনুসন্ধান করো”। (বুখারী, তিরমিজি ও মুসলিম)

শবে ক্বদরের রাতে কি দোয়া করা হবে সে প্রসঙ্গে হযরত আয়েশা (রা:) রাসূলূল্লাহ (স.) কে জিজ্ঞেস করেন- ‘যদি আমি বুঝতে পারি শবে ক্বদর কোন রাত্রিতে, তবে তখন আমি কি বলব? তিনি বললেন, ‘তুমি বলবে, আল্লাহ্ তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালবাসো। অতএব আমাকে ক্ষমা করো।” (আহমাদ, ইবনে মাজাহ ও তিরমিযী)

মহান আল্লাহ্ এ রাত সম্পর্কে বলেন- আমি এ (কুরআন)কে ক্বদরের রাতে নাজিল করেছি।

অর্থাত্ কুরআন পাক লওহে মাহফুজ হতে এই রাত্রিতে দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ হয়েছে। এই কিতাবের এত বড় মর্যাদা ও গুরুত্ব রয়েছে যে, একে বছরের যে কোনো একদিন নাজিল করা হয়নি। এর জন্য একটা সময় বাছাই করা হয়েছে, যা বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান, সে সময়টি হলো ক্বদরের রাত।

তুমি কি জানো ক্বদরের রাত কী?

ক্বদরের রাতের গুরুত্ব সম্বন্ধে সচেতন করার জন্য বলা হয়েছে যে, হে নবী, ঐ রাতের কথা আপনার জি জানা আছে?

শবে ক্বদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।

হাজার মাস এবাদত করলে যে পরিমাণ সওয়াব হবে এক শবে ক্বদরে এবাদত করলে তার চাইতেও অধিক সওয়াব পাওয়া যাবে।

এই রাতে ফেরেশতাগণ এবং রূহুল কুদুস তাদের রবের অনুমতিক্রমে জমিনের দিকে অবতরণ করেন।

হযরত জীব্রাঈল (আ.) ফেরেশতাগণের একটি দলের সাথে অবতরণ করেন এবং যে কোনো ব্যক্তিকে জিকির বা অন্যান্য এবাদত বন্দেগীতে মশগুল দেখতে পান, তার জন্য রহমতের দোয়া করেন।

ফজরের উদয় হওয়া পর্যন্ত ঐ রাতটি পুরোপুরি শান্তিময়।

অর্থাত্ সারারাত ফেরেশতাদের পক্ষ হতে মু’মিনদের ওপর সালাম বর্ষিত হতে থাকে। এই রাতটি যেকোনো ফেত্না ফাসাদ হতে নিরাপদ তাই রাত্রিটি পরিপূর্ণভাবে শান্তিময়। আর এই শান্তি ও বরকতসমূহের প্রকাশ ঘটতে থাকে সকাল পর্যন্ত। এভাবে আল্লাহর বান্দাদের জন্য গোটা রাতটা পরিপূর্ণভাবে শান্তিময় হয়ে যায়।

কুরআনের উপরোক্ত আয়াত দ্বারা বুঝা যায়, ক্বদরের রাতটি কত ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময়। এরকম বহু হাদীস দ্বারাও এটি প্রমাণিত।

সূরা আদ-দুখানে বলা হয়েছে- “নিশ্চয়ই আমি তা (কুরআন) বরকতময় রাতে নাজিল করেছি। অবশ্যই আমি মানুষকে সাবধান করতে চেয়েছি। ঐ রাতে আমার নির্দেশে সব বিষয়ের সুবিচারমূলক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।” (আয়াত-৪৪)

এতেই বুঝা যাচ্ছে যে, এ রাতটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাত, আমীন।


এ বছর লাইলাতুল ক্বদর ২৭ রমজান হতে পারে

মুফতী আব্দুল জব্বার জিহাদী/ এ বছর লাইলাতুল ক্বদর ২৭ রমজান হতে পারে

স্টাফ রিপোর্টার: জামেয়া রহমানিয়া’র মুহতামিম ও বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মুফতী আব্দুল জব্বার জিহাদী বলেন, লাইলাতুল ক্বদর আমাদের জন্য মহান আল্লাহর একটি বিরাট নিয়ামত। দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতের সাফল্যের জন্য এই এক রাতই যথেষ্ট। কারণ ক্বদরের রাতের ইবাদাত দ্বারা মুমিন বান্দা আল্লাহ জাল্লা শানুহুর প্রিয় ভাজন হয়ে ওঠে। আর মুসলমান হিসেবে আমরা সকলেই দৃঢ় ভাবে এ বিশ্বাস করি যে, আমাদের জীবনে ভাল বা মন্দ যা কিছুই ঘটে সবই আল্লাহর ইচ্ছা, সংঘটিত হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রিয়, মহান আল্লাহ যে তাকে উভয় জগতে মঙ্গল দান করবেন তাকে সফল করবেন এটাই স্বাভাবিক ক্বদরের রাতের মহত্ম এতই যে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ আল্লাহর হাবীব রাসুলে করিম (সা:) এ রাতের অন্বেষণে রমজান মাসের শেষ দশদিন কোমর বেঁধে ইবাদাতে মগ্ন থেকে রাত্রি জাগরণ করতেন বলে হযরত আয়েশা (রা:) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স:) এর ওফাতের পরে হযরত জিবরাঈল (আ:) এর পৃথিবীতে আগমণ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বছরে একবার রহমতের ফেরেশতাদের একটি দল নিয়ে ক্বদরের রাতে পৃথিবীতে আসেন বলে সুরা ক্বদরে উল্লেখ করা হয়েছে। এক হাদীসে রাসুলে করিম (স:) বলেছেন, ক্বদরের রাতে ইবাদাতে মগ্ন ব্যক্তিদের সাথে রহমতের ফেরেশতাগণ আলিঙ্গন করেন। দৈনিক সোনালী সংবাদকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে মুফতী আ. জব্বার জিহাদী বলেন মানুষ যাতে একটি রাতের ইবাদাতকে যথেষ্ট মনে না করে সেজন্য ক্বদরের রাতকে অজ্ঞাত রাখা হয়েছ্‌ে রাসুলুল্লাহ (স:) রমজান মাসের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাত গুলিতে লাইলাতুল ক্বদর অনুসন্ধান করতে বলেছেন, তবে আল্লাহর ওলীগণ আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্কের কারণ বুঝতে পারেন কোন রাতে ক্বদরের রাত হয়। সেফাতে বিশিষ্ট উলাময়ের কিরাম লাইলাতুল ক্বদরের কিছু নিদর্শন বর্ণনা করেছেন। যেমন ক্বদরের রাত হতে নাতিশোতষ বেশি ঠাণ্ডাও হবেনা বেশি গরমও হবেনা।আকাশ থাকবে পরিস্কার। অন্যান্য রাতের মত এ রাতে কুকুরের ঘেউ ঘেউ আওয়াজ এ রাতে শোনা যাবেনা। তিনি বলেন, আল্লাহর বিশিষ্ট ওলী শায়েখ আবু হাসান কারখী (র:) তার জীবনের পঞ্চাশ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেছেন, যদি মাহে রমজানের প্রথম দিন বুধবারে হয়। তাহলে লাইলাতুল ক্বদর ২৯ তারিখে যদি রমজানের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার হয় তাহলে লাইলাতুল ক্বদর ২৫ তারিখে যদি পহেলা রমজান শুক্রবারে হয় তাহলে ক্বদরের রাত ২৭ রমজান, যদি রমজানের ১ তারিখ শনিবারে হয়, তাহলে ক্বদরের রজনী ২৩ রমজান, ১লা রমজান রবিবারে হলে লাইলাতুল ক্বদর ১লা রমজান ১লা রমজান সোমবার হলে ক্বদর ২১ রমজান আর যদি রমজান মাস মঙ্গলবারে শুরু হয় তাহলে লাইলাতুল ক্বদর ২৭ শে রমজান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
তিনি বলেন, যেহেতু এবার রমজান মাস মঙ্গলবারে শুরু হয়েছ্‌ে তাই আবুল হাসাখী কারনা (র:) এর অভিজ্ঞতা অনুসারে এবার ক্বদরের রাত ২৭ শে রমজান হতে পারে। আল্লাহই ভাল জানেন।
Source: http://sonalisangbad.com,
লেখকঃ admin on Aug 23rd, 2011