Monday, September 12, 2011

রমযানের শেষ দশ দিন

রমযানের শেষ দশ দিন

রমযানের শেষ দশ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত রাসূলুল্লাহ সা. এই দশ দিনে অক্লান্ত পরিশ্রম করতেন বস্তুজগতের মায়ামোহের বাঁধন ছিঁড়ে তাকওয়ামুখী হৃদয় অর্জন ও আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মুখ্য সময় হল মাহে রমযান আর রমযানের শেষ দশ দিন হল তাকওয়া ও আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের শেষ সুযোগ সে হিসেবে বর্ণনাতীত শ্রম দিতে হয় এই দিনগুলোতে

হাদীসে এসেছে: উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, ‘রমযান মাসের শেষ দশকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত বেশি ইবাদত করেছেন যা অন্য সময় করেননি” (মুসলিম)

তিনি আরো বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশকে কোরআন তিলাওয়াত, নামায, যিক্র ও দোয়ার মাধ্যমে রাতযাপন করতেন তারপর সেহরী খেতেন

আয়েশা (রা) থেকে আরেকটি হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের শেষ দশকে রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবারবর্গকেও জাগিয়ে দিতেন খুব পরিশ্রম করতেন এমনকি লুঙ্গি বেঁধে নিতেন” (বুখারী ও মুসলিম)

রমযানের শেষ দশকে রাসূলুল্লাহ সা. তেকাফ করতেন এবং এ ইতেকাফের জন্য মসজিদের নির্জন স্থান বেছে নিয়ে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের চেষ্টা করতেন শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও, অন্যসব কাজকর্ম পেছনে ফেলে একনিষ্ঠ হয়ে রমযানের শেষ দশ দিন মসজিদে কাটাতেন

তেকাফ

একাগ্রচিত্তে আল্লাহ তাআলার ইবাদতের উদ্দেশে সুনির্ধারিত পন্থায় মসজিদে অবস্থান করাকে তেকাফ বলে

তেকাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত নিয়মিত ইতেকাফ করেছেন পরবর্তীতে তাঁর সাহাবীগণ এ ধারা অব্যাহত রেখেছেন সে হিসেবে রমযানের শেষ দশকে ইতেকাফ করা সুন্নাত

তেকাফের উপকারিতা

* তেকাফের মাধ্যমে বান্দার সাথে আল্লাহর সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়

* অহেতুক কথা, কাজ ও কুপ্রবৃত্তি থেকে সংযত থাকার অভ্যাস গড়ে ওঠে

* তেকাফ অবস্থায় লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা সহজ হয়

* তেকাফের মাধ্যমে মসজিদের সাথে সম্পর্ক তাজা হয় ও মসজিদে অবস্থানের অভ্যাস গড়ে ওঠে

* তেকাফকারী দুনিয়াবী ব্যস্ততা থেকে দূরে অবস্থান করে ইবদাত বন্দেগীর মাধ্যমে আধ্যাত্মিক উৎকর্ষের বিশেষ পর্যায়ে পৌঁছুতে সক্ষম হয়

* বদ অভ্যাস ও কুপ্রবৃত্তি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রিত হয়ে ইতেকাফের মাধ্যমে চারিত্রিক বলিষ্ঠতা অর্জন করা সম্ভব হয়

তেকাফে প্রবেশ

রমযানের শেষ দশকে ইতেকাফকারীর জন্য , বিশ তারিখের সূর্যাস্তের পূর্বেই ইতেকাফস্থলে প্রবেশ করা উত্তম কেননা ইতেকাফের মূল লক্ষ্য লাইলাতুল ক্বদরের অনুসন্ধান, যা শেষ দশকের বে-জোড় রাতগুলোতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি আর একুশতম রাত এরই অন্তর্ভুক্ত তবে ফজরের নামাযান্তেও ইতিকাফে প্রবেশ করা যেতে পারে এ মর্মে আয়শা (রাঃ) থেকে একটি হাদীস বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে

তেকাফ থেকে বের হওয়া

ঈদের রাতে সূর্যাস্তের পর ইতিকাফ থেকে বেরিয়ে পড়া বৈধ তবে সালাফদের কারও কারও মতে ঈদের রাত মসজিদে অবস্থান করে মসজিদ থেকেই ঈদের জামাতে অংশ গ্রহণ করা উত্তম

তেকাফকারীর মসজিদ থেকে বের হওয়া না হওয়া প্রসঙ্গ

* বিনা ওযরে ইতেকাফকারী যদি মসজিদ থেকে বের হয়ে যায় তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে তার ইতেকাফ বাতিল বলে গণ্য হবে আর যদি শরীরের অংশ বিশেষ বের করে দেয়, তাহলে কোনো অসুবিধা হবে না নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও ইতেকাফ অবস্থায় নিজ মাথা বের করে দিতেন মা আয়েশা (রা) নিজ কক্ষে বসেই রাসূলুল্লাহর মাথা ধুয়ে সিঁথি করে দিতেন

অতি প্রয়োজনীয় বিষয় যেমন, অযু, গোসল, পানাহার, প্রস্রাব-পায়খানা ইত্যাদি কাজের জন্যে সর্বসম্মতিক্রমে বের হওয়া জায়েয আর যদি উল্লিখিত বিষয়সমূহ মসজিদের ভিতরে থেকেই সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয় তাহলে মসজিদ থেকে বের হওয়া বৈধ হবে না

তেকাফ যদি এমন মসজিদে হয়, যেখানে জুমার নামায হয় না, তাহলে জুমার নামাজের জন্য জামে মসজিদে গমন করা ওয়াজিব

* ওয়াজিব নয় এমন ইবাদত যেমন জানাযায় অংশ গ্রহণ, অসুস্থকে দেখতে যাওয়া ইত্যাদির উদ্দেশ্যে বের হওয়া জায়েয নেই

তেকাফকারীর ইবাদত

সব ধরনের ইবাদতই ইতেকাফকারীর জন্য অনুমোদিত যেমন ঃ নামায, কুরআন তিলাওয়াত, যিক্র, দোয়া,ইসতেগফার, সালামের উত্তর দেয়া, সৎকাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ, ফতোওয়া প্রদান, ইলম শিক্ষা ইত্যাদি

তেকাফকারীর জন্য পর্দা টাঙ্গিয়ে লোকজন থেকে নিজকে আড়াল করে নেয়া মুস্তাহাব কেননা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতেকাফ করেছেন একটি তুর্কি তাঁবুতে যার প্রবেশ দ্বারে ছিল একটি পাটি

(সহীহ মুসলিম)

তেকাফকারী প্রয়োজনীয় বিছানা-পত্র, কাপড় ইত্যাদি সাথে নিয়ে নিবে, যাতে মসজিদ থেকে বেশি বের হতে না হয়

তেকাফকারীর জন্য মসজিদের ভেতরে পানাহার, ঘুমানো, গোসল, সাজগোজ, সুগন্ধী ব্যবহার, পরিবার-পরিজনের সাথে কথপোকথন ইত্যাদি সবই বৈধ তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন সীমাতিরিক্ত না হয়ে যায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইতেকাফস্থলে তাঁর পত্নিগণের সাক্ষাত ও কথপোকথন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত

যেসব কাজ থেকে ইতেকাফকারী বিরত থাকবে

* অতিরিক্ত কথা ও ঘুম, অহেতুক কাজে সময় নষ্ট করা, মানুষের সাথে বেশি বেশি মেলা-মেশা ইত্যাদি ইতেকাফের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যহত করে তাই এ সব থেকে ইতিকাফকারী বিরত থাকবে

* ইতিকাফ অবস্থায় ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয় কেননা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন

(সহীহ মুসলিম)

কামভাবসহ স্বামী-স্ত্রীর আলিঙ্গন ইতিকাফে থাকাকালীন কোনো অবস্থাতেই অনুমোদিত নয়, তা বরং সর্বসম্মতিক্রমে হারাম

* বায়ূ নি:সরণ মসজিদের আদবের পরিপন্থী তাই পারতপক্ষে একাজ থেকে বিরত থাকা উচিত

লাইলাতুল ক্বদর

সম্মানিত রজনী লায়লাতুল ক্বদর পবিত্র কুরআনে লাইলাতুল ক্বদরকে বরকতময় রজনী বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছে লাওহে মাহফুয থেকে প্রথম আকাশের বায়তুল মামুরে সম্পূর্ণ কুরআন নাযিল হয় এ সম্মানিত রাতে এ রাত হাজার মাস থেকেও উত্তম এ রাতে ফেরেশতা এবং জিব্রাইল আমীন অবতীর্ণ হন শান্তির আবহ ঘিরে রাখে প্রতিটি বিষয়কে লায়লাতুল ক্বদরে এই রজনীতে স্থিরীকৃত হয় প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় মাগফিরাতের রজনী লায়লাতুল ক্বদর হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ছোয়াবের আশায় লায়লাতুল ক্বদর ইবাদতের মাধ্যমে যাপন করে তার অতীতের সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়

লায়লাতুল ক্বদরে শয়তান বের হয় না রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)বলেন,এ রজনীতে শয়তানের বের হওয়ার অনুমতি নেই

লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা

রমযানের শেষ দশ দিনেলাইলাতুল ক্বদরতালাশ করা মুস্তাহাব তবে তা বে-জোড় রজনীতে হওয়া প্রায় নিশ্চিত

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমরালাইলাতুল ক্বদরতালাশ করো রমযানের শেষ দশকের বে-জোড় রজনীগুলোতেতিনি আরো বলেন, “তোমরা রমযানের শেষ দশকেলাইলাতুল ক্বদরতালাশ করোসে হিসেবে রমযানের ২১,২৩,২৫,২৭ ও ২৯ তারিখেলাইলাতুল ক্বদরহওয়ার সম্ভাবনা আছে লাইলাতুল ক্বদর পাওয়ার উত্তম পদ্ধতি হল রমযানের শেষ দশ দিন ই'তেকাফে কাটানো এবং শেষ দশকের প্রতিটি রাত ইবাদতের মাধ্যমে যাপন করালাইলাতুল ক্বদরে আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত দোয়া আল্লাহুম্মা ইন্নাকাআফুউন কারীমুন তুহিব্বুলআফওয়া ফাফুআন্নী [হে আল্লাহ তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করাকে তুমি পছন্দ কর, সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করো]

http://sorolpath.com

Sunday, September 11, 2011

হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রজনী

হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রজনী
লিখেছেন মোহাম্মদ লোকমান, রাত ০৮: ৩০, ১০ জুলাই, ২০১১

পবিত্র লাইলাতুল ক্বাদ্‌র এবং শা'বান মাসের মধ্য রজনী (কথিত লাইলাতুল বরাত) নিয়ে অনেক মুসলমান ভাই বোনদের মধ্যে কনফিউশান আছে। অনেকেই জানেননা পবিত্র কুরআন এবং হাদীসে 'লাইলাতুল বরাত' নামের কোন রজনী আছে কি না। পক্ষান্তরে পবিত্র কুরআন ঘোষিত 'লাইলাতুল ক্বাদর'কেও অনেকে গতানুগতিক রাত্রি মনে করে অবহেলা করে থাকেন।
মহাগ্রন্থ আল্‌ কুরআনের ৯৭ নং সূরার নাম হচ্ছে - সূরা আল্‌ ক্বাদ্‌র। পাঁচটি আয়াত সম্বলিত এই সূরাটির বাংলা অনুবাদ নিম্নরুপ :- (১) নিশ্চয়ই আমি একে (পবিত্র কুরআনকে) নাযিল করেছি ক্বদরের রাতে। (২)আপনি কি জানেন, ক্বদরের রাত কি? (৩) ক্বদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। (৪) এই রাত্রিতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। (৫) এটা নিরাপত্তা যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
পবিত্র হাদীস শরীফে মাহে রমজানের শেষ ১০ দিনের যেকোন বোজোড় যথা ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯ তম রজনীতে লাইলাতুল ক্বাদ্‌র তালাশ করার কথা বলা হয়েছে। সাহাবায়ে কেরামদের (রাঃ) কেউ কেউ খাছ করে ২৭ তম রজনীকে লাইলাতুল ক্বদ্‌র বলেছেন। সুতরাং আমরা রমজানের শেষ দশ দিনের বিজোড় রাত সমূহ তালাশ করলে লাইলাতুল ক্বাদ্‌র পেতে পারি।
বাংলাদেশে তথা পাক-ভারত উপ মহাদেশের মুসলমানদের চরম দুর্ভাগ্য হচ্ছে - এ অঞ্চলের অধিকাংশ মুসলমান আল্লাহ ও রাসূল সা: এর নির্দেশের চেয়ে বিভিন্ন রসম রেওয়াজ ও পীর-বুজর্গের বাণীকেই অগ্রাধীকার দিয়ে থাকেন বেশী। অনেক উদাহরণের দিকে না গিয়ে শুধু মাত্র লাইলাতুল বরাত এবং লাইলাতুল ক্বাদ্‌রের পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি আমাদের নিকট স্পষ্ট হবে আশা করি।
মহাগ্রন্থ আল্‌ কুরআন ও হাদীস শরীফের কোথাও ‘লাইলাতুল বরাত’ নামে কোন রজনীর উল্লেখ নেই। অথচ আমাদের দেশে আবিস্কৃত! লাইলাতুল বরাতে ইবাদাতের নামে নানা পদের উপাদেয় খাওয়া দাওয়া, হালুয়া রুটি বিলানো, ফাতেয়া দেয়া, সৌভাগ্যের আশায় ঘর এবং কবর সমূহে মোমবাতি জ্বালানো ইত্যাদি করা হয় এই অন্ধ বিশ্বাসে যে, এ রাতে যে ভাবে খাওয়া দাওয়া চলবে, বছরের সব দিনগুলি নাকি সে ভাবেই চলবে। মসজিদে মসজিদে ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ, জামায়াতের সাথে লাইলাতুল বরাতের নামাজ, ইবাদাতের নামে মাজারে মাজারে ধর্ণা দেয়া, মসজিদ এবং মাজারে নানা রকমের লাইটিং ডেকোরেশন ইত্যাদি ইত্যাদিতে এক মহা আয়োজন।
এর বিপরীতে ‘পবিত্র লাইলাতুল ক্বাদর’ এর অবস্থা দেখুন, যে লাইলাতুল ক্বদরের উপর মহাগ্রন্থ আল কুরআনে একটি সূরা নাযেল হয়েছে, হাদীস শরীফে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে। সেই লাইলাতুল ক্বদর পালন করা হয় খুবই ঢিলে-ঢালা ভাবে। গুটি কয় আল্লাহর বান্দা ইবাদাতে থাকলেও লাইলাতুল বরাত নামের প্রোগ্রামে যারা মসজিদ মাতিয়ে রাখতেন তারা ঈদের কেনা কাটায় মার্কেটে ভিড় করেন অধিক হারে। কি জানি রমজানে ঈদের মার্কেটিং করার জন্য ক্বদরের বিকল্প হিসাবে রমজানের পূর্বেই বরাত বানানো হয়েছে কি না।
সূরাটির তৃতীয় আয়াতে বলা হয়েছে - “লাইলাতুল ক্বাদরি খাইরুম্‌মিন আলফে শাহার” অর্থাৎ ক্বদর বা ভাগ্য রজনী হাজার মাসেরে চেয়েও উত্তম। এখানে হাজার মাস মানে গুনে ৮৩ বছর ৪মাস নয়, মর্যাদার অধিক্য বুঝানোর জন্য হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে।
লাইলাতুল ক্বদরের মর্যাদা এত বেশী কেন, তা ‍সূরার প্রথম আয়াতেই বলা হয়েছে - “ইন্না আনযাল্‌না হু ফী লাইলাতিল ক্বাদর” - ‘আমি এ (কুরআন) নাযিল করেছি ক্বদরের রাতে।’ সূরা দুখানে একে মুবারক রাত বলা হয়েছে। বলা হয়েছে : “ইন্না আনযালনা-হু ফী লাইলাতিল মুবারাকা” ‘অবশ্যি আমি একে একটি বরকতপূর্ণ রাতে নাযিল করেছি।’
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, মানব জাতির ইহ ও পরকালীন মুক্তির সনদ মহাগ্রন্থ আল্‌ কুরআন নাযিলের কারণে ক্বাদরের রাতটিকে সম্মানিত এবং বরকতময় করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনের সাথে যথাযত সম্পর্ক গড়তে পারলে মহান আল্লাহ সুবহানা ওয়া তায়ালা মানব জাতির জীবনও বরকতময় করে দেবেন এবং ইহ ও পরকালীন জীবনে সম্মানিত করবেন।
এই মুবারক রাতে ইবাদতের ফযীলত অনেক বেশী। ওলামায়ে কেরামদের কেউ কেউ এই এক রাতের ইবাদাতকে ১০০০ মাসের ইবাদাতের সমান মর্যাদা সম্পন্ন বলে থাকেন। হ্যঁ, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর বান্দার আন্তরীকতার বিচারে এর চেয়েও বেশী ছওয়াব দান করতে পারেন। এখানে অতি সুক্ষ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা না বললে নয়। তা হলো - প্রতিটি নফল ইবাদাতের ছওয়াব কিন্তু বোনাস সমতুল্য। এই বোনাসের ভাগীদার একমাত্র তারাই হবেন, যারা নিয়মিত ফরজ বা বাধ্যতামূলক ইবাদাত সমূহ পালন করে থাকেন। সারা বছর ফরজ-ওয়াজিব, হালাল-হারামের কোন ধার না ধেরে একরাতের ইবাদাতে যারা কেল্লা ফতেহ করতে চান, দয়া করে বিষয়টি আরেকবার ভাবুন। বোনাস সেই সব কর্মচারীদের জন্যই ঘোষনা করা হয় যারা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কর্মচারী। অনিয়মিত মজুরদের জন্যও বোনাস হয় না।
অতএব আসুন, পবিত্র ভাগ্য রাজনী তথা লাইলাতুল ক্বাদর থেকে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করি এবং চেষ্টা করি ইবাদাতের নামে বেদয়াত পরিহার করার। ধন্যবাদ সকলকে।
Source: http://www.amarbornomala.com

Saturday, September 10, 2011

শবে বরাত পালন করা সুন্নাত না বিদআত

শবে বরাত পালন করা সুন্নাত না বিদআত

আসসালামু আলাইকুম
এখন আরবী শাবান মাস, শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে কিয়াম করা (নফল নামায পড়া) এবং পরের দিন ছিয়াম পালন করা বিদআত। রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এই রাতের নফল নামায এবং দিনের বেলা রোযা রাখার ব্যাপারে কোন সহীহ হাদীছ পাওয়া যায়না। এরাতকে আমাদের দেশের পরিভাষায় শবে বরাত বলা হয়ে থাকে। এরাত সম্পর্কে মানুষের বিদআতী ধারণা এবং এরাতে মানুষ যেসমস- বিদআতী আমল করে তার বি স্তারিত বিবরণ প্রয়োজন। নিম্মে তার কিছু বিবরণ পেশ করা হলঃ

শবে বরাতে কুরআন নাযিল হয়েছে বলে ধারণাঃ
শবে বরাত পালনকারীদের বক্তব্য হল, শবে বরাতের রাতেই কুরআন নাযিল হয়েছে। সূরা দুখানের ৩নং আয়াতকে তারা দলীল হিসাবে পেশ করে থাকে। আল্লাহ বলেন,
إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِىْ لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ
অর্থঃ আমি কুরআনুল কারীমকে একটি বরকতপূর্ণ রাতে অবতীর্ণ করেছি। এবরকতপূর্ণ রাতই হল শবে বরাতের রাত। কতিপয় আলেম এভাবেই অত্র আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন।
তাদের এব্যাখ্যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এখানে বরকতপূর্ণ রাত বলতে লাইলাতুল ক্বদর উদ্দেশ্য। আল্লামা ইবনে কাছীর (রঃ) বলেন, অত্র বরকতপূর্ণ রাতই হল লাইলাতুল ক্বদর বা ক্বদরের রাত। যেমন অন্যত্র সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়েছে। কুরআনের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য কথা হল, কুরআনের কোন অস্পষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা যদি অন্য কোন আয়াতে সুস্পষ্টভাবে পাওয়া যায়, তাহলে কুরআনের ব্যাখ্যাই গ্রহণ করতে হবে। আমরা দেখতে পাই যে, আল্লাহ সূরা কদরের শুরুতে বলেন,
إِنَّ أَنْزَلْنَاهُ فِى لَيْلَةِ الْقَدْرِ
অর্থঃ আমি কুরআনকে ক্বদরের রাতে অবতীর্ণ করেছি। (সূরা কদরঃ ১) আর এ কথা সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত যে, লাইলাতুল ক্বদর রামাযান মাস ব্যতীত অন্য কোন মাসে নয়। এমনিভাবে আল্লাহ তায়া’লা রামাযান মাসে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে সূরা বাকারায় বলেন,
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِى أُنْزِلَ فِيْهِ الْقُرْآنُ
অর্থঃ রামাযান মাস এমন একটি মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। (সূরা বাকারাঃ ১৮৫) সুতরাং শবে বরাতে কুরআন নাযিল হওয়ার কথা গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা।

শবে বরাতের রাতে আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসার ধারণাঃ
শবে বরাতসহ অন্যান্য বিদআতী ইবাদতের পক্ষের আলেমগণ বলে থাকে, এরাতের শেষের দিকে আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং সকল মানুষকে ক্ষমা প্রার্থনার আদেশ দেন। আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীন ক্বলব গোত্রের বকরীগুলোর লোম সংখ্যার চেয়ে অধিক সংখ্যক লোকের গুনাহ ক্ষমা করে থাকেন।
উপরোক্ত অর্থ বহনকারী হাদীছটি কয়েকটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু সকল বর্ণনাই যঈফ বা দূর্বল। নির্দিষ্টভাবে এরাতে আল্লাহর দুনিয়ার আকাশে নেমে আসার এবং সকল বান্দাকে ক্ষমা চাওয়ার প্রতি আহবান জানানোর হাদীছটি সুনানে ইবনে মাজায় জাল সনদে বর্ণিত হয়েছে। হাদীছের সনদে ইবনে আবু সাব্‌রাহ্‌ নামে একজন জাল হাদীছ বর্ণনাকারী রাবী রয়েছে। তাছাড়া হাদীছটি বুখারী সহ অন্যান্য হাদীছ গ্রনে’ বর্ণিত সহীহ হাদীছের বিরোধী। সহীহ হাদীছের বর্ণনা অনুযায়ী আল্লাহ তায়া’লা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বলতে থাকেন, কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি ক্ষমা করে দিব। অমুক আছে কি? অমুক আছে কি? এভাবে প্রতি রাতেই ঘোষণা করতে থাকেন। সুতরাং জাল হাদীছের উপর ভিত্তি করতঃ সহীহ হাদীছের মর্ম প্রত্যাখ্যান করে শবে বরাতের রাতে আল্লাহ্‌ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসার আকীদা পোষণ করা এবং সে রাতে বিশেষ ইবাদত করার কোন বৈধতা নেই।

মৃত ব্যক্তির রূহ দুনিয়াতে আগমণের বিশ্বাসঃ
শবে বরাত পালনের পিছনে যুক্তি হল, এরাতে মানুষের মৃত আত্মীয়দের রূহসমূহ দুনিয়াতে আগমণ করে স্ব স্ব আত্মীয়দের সাথে সাক্ষাৎ করে। এটি একটি অবান্তর ধারণা, যা কুরআন্তসুন্নার সুস্পষ্ট বিরোধী। আল্লাহ তায়া’লা বলেন,
) وَ مِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمٍ يُبْعَثُوْنَ (
অর্থঃ ওদের (মৃতদের) পিছনে রয়েছে অন্তরায়, তারা সেখানে কিয়ামত দিবস অবদি অবস্থান করবে। (সূরা মুমেনূনঃ ১০০)

এরাত্রে মানুষের ভাগ্য লিখা হয় বলে ধারণাঃ
তাদের এধারণাটিও ঠিক নয়। এ কথার পিছনে কুরআন হাদীছের কোন দলীল নেই। সহীহ হাদীছে রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
)كَتَبَ اللَّهُ مَقَادِيرَ الْخَلَائِقِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ(
অর্থঃ আকাশ-জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বেই আল্লাহ তায়া’লা স্বীয় মাখলুকের তাকদীর লিখে রেখেছেন।

হালুওয়া রুটির রহস্যঃ
তাদের বক্তব্য হচ্ছে শবে বরাতের দিন ওহুদ যুদ্ধে নবী (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দাঁত মোবারক শহীদ হয়েছিল। তাই নবী (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শক্ত খাবার খেতে না পারায় নরম খাদ্য হিসাবে হালুওয়া-রুটি খেয়েছিলেন। তাই আমরাও নবীর দাঁত ভাঙ্গার ব্যথায় সমবেদনা প্রকাশ করে হালুওয়া-রুটি খেয়ে থাকি। এটি একটি কাল্পনিক কথা। কারণ ওহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তৃতীয় হিজরীর শাওয়াল মাসে, শাবান মাসে নয়।

এ রাতে কবর যিয়ারতের পিছনে যুক্তি ও তা খন্ডনঃ
এরাতে রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাকী কবরস্থান যিয়ারত করেছেন। তাই আমাদেরকেও এরাতে কবর যিয়ারত করতে হবে। এমর্মে ইবনে মাজাহ শরীফে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ। হাদীছের সনদে হাজ্জাজ ইবনে আরত্বাত নামক একজন যঈফ রাবী রয়েছে। ইমাম বুখারী সহ অন্যান্য মুহাদ্দিছগণ হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন।

একশত রাকাত নামাযের ভিত্তি খন্ডনঃ
এরাতে একশত রাকাত নামাযের ব্যাপারে যত হাদীছ রয়েছে, তার সবই জাল বা বানোওয়াট। এ নামায সম্পর্কে রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোন হাদীছ প্রমাণিত নেই। একশত রাকাত নামায পড়ার বিদআতটি ৪৪৮ হিজরীতে সর্বপ্রথম জেরুজালেমের বাইতুল মুকাদ্দাস মসজিদে প্রবর্তিত হয়। মসজিদের ইমামগণ অন্যান্য নামাযের ন্যায় এ নামাযও চালু করে দেয়।

শবে বরাতের রোযাঃ
শবে বরাতের রোযা রাখার প্রমাণ স্বরূপ দু’টি হাদীছ পেশ করা হয়ে থাকে। প্রথম হাদীছঃ শাবান মাসের মধ্যরাত এলে তোমরা রাতে কিয়াম কর এবং দিনে ছিয়াম পালন কর। এই হাদীছের সনদে ইবনে আবু সাব্‌রাহ নামক একজন জাল হাদীছ রচনাকারী রাবী থাকার কারণে হাদীছটি গ্রহণযোগ্য নয়। দ্বিতীয় হাদীছঃ ইমরান বিন হুসাইন (রাঃ) বলেন, একবার রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক ব্যক্তিকে বললেন, তুমি কি সিরারে শাবানের রোযা রেখেছ? লোকটি বলল না। অতপর নবী (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রামাযানের পরে রোযা দু’টি কাযা আদায় করতে বললেন।
অধিকাংশ আলেমদের মতে সিরার অর্থ মাসের শেষ। উক্ত ব্যক্তি শাবানের শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত রোযা পালনে অভ্যস- ছিল অথবা এটা তার মানতের রোযা ছিল। রামাযানের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ভয়ে সে রোযা রাখা ছেড়ে দিয়েছিল। কারণ শাবান মাসের শেষের দিকে রামাযানের রোযার সাথে মিশিয়ে রোযা রাখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে রোযা দু’টি কাযা আদায় করতে বলেছিলেন।
প্রিয় পাঠক মন্ডলী! শবে বরাতের পিছনে এত আয়োজন, যার জন্য সরকারী ছুটি পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়। লক্ষ লক্ষ টাকা এর পিছনে ব্যয় করা হয়ে থাকে। অথচ এর পিছনে কোন ভিত্তি নেই। মুসলিম জাতির উচিৎ এবিদআত থেকে বিরত থাকা। পরিতাপের বিষয় এই যে, অনেকেই এবিদআতকে বিদআতে হাসানাহ বলে থাকে। আসলে বিদআতে হাসানাহ বলতে কিছু নেই। ইসলামের নামে তৈরীকৃত সকল বিদআতই মন্দ, হাসানাহ বা ভাল বিদআত নামে কোন বিদআতের অসি-ত্ব নেই। রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
)كُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٍ وَ كُلُّ ضَلَالَةٍ فِى النَّارِ(
অর্থঃ প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা আর সমস- ভ্রষ্টতার পরিণাম হল জাহান্নাম। ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, “সমস- বিদআতই ভ্রষ্টতা যদিও মানুষ তাকে উত্তম বলে থাকে।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, শবে বরাতের এ আয়োজন শুধুমাত্র বাংলাদেশ, ভারত, পাকি স্তানসহ অনারব দেশসমূহেই দেখা যায়। আরব দেশসমূহে এর তৎপরতা নেই বললেই চলে। বিশেষ করে ইসলামের প্রাণ কেন্দ্র সৌদি আরবে শবে বরাতের কোন অসি-ত্বই দেখা যায়না। মক্কা-মদীনার সম্মানিত ইমামগণের কেউ কোন দিন শবে বরাত উদ্‌যাপন করার প্রতি জনগণকে উৎসাহিত করেন না। কারণ তারা ভাল করেই জানেন যে ইহা দ্বীনের কোন অংশ নয়। বরং তা একটি নব আবিষকৃত বিদআত। এজন্যই তাঁরা শবে বরাতসহ অন্যান্য সকল বিদআত থেকে মুসলিম জাতিকে সতর্ক করে থাকেন এবং তাদের সকল জুমআর খুৎবা ও অন্যান্য আলোচনা ও ভাষণে বিনা শর্তে কুরআন ও সুন্নার অনুসরণের আহবান জানান।
ধন্যবাদ সবাইক

তথ্য সূত্র-
বিদআত থেকে সাবধান
মূল-শাইখ সালেহ বিন ফাওযান আল- ফাওযান
পৃষ্ঠা নং-57 থেকে 64

Windows Seven Firefox 5.0

"""শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে কিয়াম করা (নফল নামায পড়া) এবং পরের দিন ছিয়াম পালন করা বিদআত।""
আপনার এই লেখায় আমি একমত হতে পারছিনা।বাংলাদেশ এ অনেক বড় বড় আলেম,ইমাম,মুফতি এবং বড় বড় কোরআন ও হাদীস গবেষক আছেন।যারা সত্যকার মুমীন ব্যাক্তি।তারা আজ পর্যন্ত এ ব্যাপআর এ নিষেধ করলোনা।আর আপনি কেন এসব বলে বিতর্ক সৃষ্টি করছেন?নিচে আমি কিছু বক্তব্য পেশ করলাম।


আপনার লেখা দেখে আমি মোক্সুদুল মোমেনিন নামের হাদীস বের করলাম।এর পর শবে বারাত এর অধ্যায় বের করলাম।মজার বেপার হলো যত গুলো হাদীস রয়েছে তার পক্ষে কোনো রেফারেন্স নেই।শুধু বলা হয়েছে""হাদীস এ আছে""
আপনার লেখা নিয়ে আমার কিছু মতামত।ঃ

মৃত ব্যক্তির রূহ দুনিয়াতে আগমণের বিশ্বাসঃ পুরাই ফালতু একটা কাহিনি।
এরাত্রে মানুষের ভাগ্য লিখা হয় বলে ধারণাঃএ ব্যাপআর এ আমি কিছু বলতে চাইনা।এ ব্যাপার এ আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন।
হালুওয়া রুটির রহস্যঃএটার প্রধান উদ্দ্যেশ্য ছিলো গরীব দুঃখিদের কে অই দিন ভালো কিছু খাওয়ানো।কিন্তু মানুষ এটা না করে নিজেদের মধ্যে কে কত বড় কুমির আর মাছ দিতে পারে তার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।হায়রে বাঙ্গালি।
একশত রাকাত নামাযের ভিত্তি খন্ডনঃএটার কোনই ভিত্তি নাই।
শবে বরাতের রোযাঃএ রাতের জন্য স্পেশাল কোনো রোযা নাই।কিন্তু আপনি নফল রোযা রাখতে পারেন।সেটা তে কোনো বাধা নাই।কারন নফল রোযা সারা বছর ই রাখা যায়।

শবে বরাতে কুরআন নাযিল হয়েছে বলে ধারণাঃএ রাত এ কোরআন নাযীল হয়নি।কিন্তু এ রাত এ কোরআন এর পুরো অংশ আল্লাহর কাছ থেকে লাওহে মাহফুয এ আনা হয়েছিলো।এবং সেটা লাইলাতুল ক্বদর এর রাত এ অবতীর্ন করা হয়।

আমি প্রতি বছর আজিমপুর কবরস্থান এ আব্বুর কবর জিয়ারত করতে যাই।যেয়ে যা দেখি সেটা দেখলে রাগ এ মাথা গরম হয়ে যায়।কবর কে ফুল দিয়ে এমন ভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে যে দেখলে মনে হয় বিয়ের গাড়ি।আমরা জানি যে এসব বেদায়াত।কিন্তু তারপরেও মানুষ এসব করে।

সব চেয়ে বড় সমস্যাঃ এ দিন পুরো দেশেই প্রায় সব খাবার এর দোকান এ মাছ,কুমির এর রুটি পাওয়া যায়।যেখানে ইসলাম এ কোনো প্রকার প্রানীর প্রতিকৃতি বানানো সম্পুর্ন নিষেধ,সেখানে এসব বানানো হচ্ছে এবং মানুষ এসব দেদারসে গ্রহন করছে।যারা এসব বানাচ্ছে তারা নিজেরাও গুনাহগার হচ্ছে আর যারা কিনছেন তারাও গুনাহ করছেন।
এবং কিছু ছেলেপেলে ভ্যান ভাড়া করে চেহারায় চমকি মেখে সারারাত মজা করছে আর মাজারে মাজারে বেদায়াতি কাজ করছে।নাউযুবিল্লাহ।

আল্লাহ আমাদের সবাই কে হেদায়াত করুন।আমীন।

Friday, September 9, 2011

লাইলাতুল কদর

লাইলাতুল কদর
লিখেছেন শান্তি প্রিয় ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১০

ক্বদর শব্দের অর্থ : মহাত্ম বা সম্মান, এই মহাত্ম ও সম্মানের কারণে একে লাইলাতুল ক্বদর, তথা মহিমান্বিত রাত বলা হয়। বারটি মাসের মধ্যে ফযিলতপূর্ণ মাস হল রমযান মাস। এই মাসের একটি রাত্র হচ্ছে লাইলাতুল ক্বদর। যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। ক্বদরের রাত্রের ফযিলত ও মহাত্ম সম্পর্কে কুরআনুল করিমে সূরাতুল ক্বদর নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাযিল হয়েছে।
অর্থঃ (১) নিশ্চয়ই আমি একে (পবিত্র কুরআনকে) নাযিল করেছি শবে ক্বদরে। (২) শবে ক্বদর সম্বন্ধে আপনি কি জানেন? (৩) শবে ক্বদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। (৪) এই রাত্রিতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। (৫) এটা নিরাপত্তা যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সুরা ক্বদর)
মহান আল্লাহ আরও বলেন, অবশ্যই আমি কুরআন নাযিল করেছি একটি বরকতপূর্ণ রাতে।” (সুরা দুখান: ৩)
ব্যাখ্যা : বরকতপূর্ণ রাতের দ্বারা বিভিন্ন তাফসিরবিদগণ শবে ক্বদরকে বুঝিয়েছেন। শবে ক্বদরের ফযিলত ও মহাত্ম সম্পর্কে কুরআন পাকের এই বর্ণনাই যথেষ্ট। এ কারণে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্বদর রজনীর ফযিলত সম্পর্কে তেমন কিছু বলেন নাই। তবে উহা কোন মাসে কোন তারিখে হতে পারে এবং উহা কারও নসীব হলে সে তখন আল্লাহর নিকট কি চাইবে সে সম্পর্কে তিনি উপদেশ দিয়েছেন।
* আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে ক্বদরের রাতে ইবাদত করে তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (বুখারী ও মুসলিম)
* আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা শবে ক্বদর তালাশ কর। রমযানের শেষ দশকের বে-জোড় রাত্রিতে। (বুখারী)
* আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমযানের শেষ দশক শুরু হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারারাত জাগতেন, নিজের পরিবারবর্গকেও জাগাতেন এবং (আল্লাহর ইবাদতে) খুব বেশী সাধনা ও পরিশ্রম করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)
* আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানের শেষ দশ দিন এতেকাফ করতেন এবং বলতেন, তোমরা রমযানের শেষ দশ রাতে শবে ক্বদর সন্ধান কর। (বুখারী ও মুসলিম)
* আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানের প্রথম দশদিন এতেকাফ করলেন। এ সময় একবার মাথা বের করে বললেন, আমি ক্বদরের রাত্রি তালাশ করতে গিয়ে প্রথম দশকে এতেকাফ করেছি, অতঃপর মধ্যম দশকেও এতেকাফ করেছি। অতঃপর স্বপ্নে আমার নিকট কেউ এসে বললো ক্বদর রজনী শেষ দশকে। অতএব যে ব্যক্তি আমার সাথে প্রথম দশকে এতেকাফ করেছে, সে যেন শেষ দশকেও এতেকাফ করে। নিশ্চয় উহা আমাকে স্বপ্নে দেখান হয়েছিল। কিন্তু পরে উহা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মনে পড়ে আমি ঐ রাত্রির ফজরে নিজেকে পানি আর কাদার মধ্যে সিজদা করতে দেখেছি। অতএব, তোমরা উহা শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিতেই তালাশ করবে। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, সেই রাতেই আকাশ ভারিবর্ষণ করল। মসজিদ তখন ছাপরা ছিল, অতএব, ছাদ থেকে পানি পড়ল। তখন আমার দুচোখ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখল যে তাঁর কপালে পানি ও কাদার দাগ লেগেছে। আর তা ছিল একুশ তারিখের সকাল, তবে আবদুল্লাহ ইবনে উনাইসের বর্ণনায় রয়েছে- তেইশ তারিখের সকাল। (বুখারী ও মুসলিম)
ব্যাখ্যা : উপরোক্ত হাদিসের দ্বারা বুঝা গেল শবে ক্বদর প্রত্যেক বৎসর একই তারিখে হয় না। তবে সকল বর্ণনাকারীর একমত রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে হয়।
‘তোমরা রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ কর।’
এটা রমজানের ২৭ তারিখ রাতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে কতক সাহাবি রমজানের শেষ ১০ রাতের ২৭ তারিখ রাতে লাইলাতুল কদর হিসেবে স্বপ্নে দেখেছিল। এ কথা শ্রবণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকেও তোমাদের মত ২৭ তারিখ রাতকেই লাইলাতুল কদর হিসেবে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরকে নির্দিষ্ট করতে চায় সে যেন ২৭ তারিখ রাতকে নির্বাচন করে নেয়।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আমি যদি ক্বদরের রাত খুঁজে পাই, তাহলে আমি ওই রাতে কি বলবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাব দিলেন, তুমি বলবে- (আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুব্বুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী) অর্থ: হে আল্লাহ তুমি অবশ্যই ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা পছন্দ করো, কাজেই আমাকে ক্ষমা করো। (তিরমিযী)

Thursday, September 8, 2011

আগেই জানী আগামিদিন আসছে শবে -ই ক্বদর

আগেই জানী আগামিদিন আসছে শবে -ই ক্বদর

ক্বদর শব্দের অর্থ : মহাত্ম বা সম্মান, এই মহাত্ম ও সম্মানের কারণে একে লাইলাতুল ক্বদর, তথা মহিমান্বিত রাত বলা হয়। বারটি মাসের মধ্যে ফযিলতপূর্ণ মাস হল রমযান মাস। এই মাসের একটি রাত্র হচ্ছে লাইলাতুল ক্বদর। যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। ক্বদরের রাত্রের ফযিলত ও মহাত্ম সম্পর্কে কুরআনুল করিমে সূরাতুল ক্বদর নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাযিল হয়েছে। অর্থঃ (১) নিশ্চয়ই আমি একে (পবিত্র কুরআনকে) নাযিল করেছি শবে ক্বদরে। (২) শবে ক্বদর সম্বন্ধে আপনি কী জানেন? (৩) শবে ক্বদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। (৪) এই রাত্রিতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। (৫) এটা নিরাপত্তা যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সুরা ক্বদর) মহান আল্লাহ আরও বলেন, অবশ্যই আমি কুরআন নাযিল করেছি একটি বরকতপূর্ণ রাতে।” (সুরা দুখান: ৩)

ব্যাখ্যা : বরকতপূর্ণ রাতের দ্বারা বিভিন্ন তাফসিরবিদগণ শবে ক্বদরকে বুঝিয়েছেন। শবে ক্বদরের ফযিলত ও মহাত্ম সম্পর্কে কুরআন পাকের এই বর্ণনাই যথেষ্ট। এ কারণে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্বদর রজনীর ফযিলত সম্পর্কে তেমন কিছু বলেন নাই। তবে উহা কোন মাসে কোন তারিখে হতে পারে এবং উহা কারও নসীব হলে সে তখন আল্লাহর নিকট কি চাইবে সে সম্পর্কে তিনি উপদেশ দিয়েছেন।

* আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে ক্বদরের রাতে ইবাদত করে তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (বুখারী ও মুসলিম)

* আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা শবে ক্বদর তালাশ কর। রমযানের শেষ দশকের বে-জোড় রাত্রিতে। (বুখারী)

* আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমযানের শেষ দশক শুরু হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা রাত জাগতেন, নিজের পরিবারবর্গকেও জাগাতেন এবং (আল্লাহর ইবাদতে) খুব বেশি সাধনা ও পরিশ্রম করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)

* আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশ দিন এতেকাফ করতেন এবং বলতেন, তোমরা রমযানের শেষ দশ রাতে শবে ক্বদর সন্ধান কর। (বুখারী ও মুসলিম)

* আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের প্রথম দশদিন এতেকাফ করলেন। এ সময় একবার মাথা বের করে বললেন, আমি ক্বদরের রাত্রি তালাশ করতে গিয়ে প্রথম দশকে এতেকাফ করেছি, অতঃপর মধ্যম দশকেও এতেকাফ করেছি। অতঃপর স্বপ্নে আমার নিকট কেউ এসে বলল ক্বদর রজনী শেষ দশকে। অতএব যে ব্যক্তি আমার সাথে প্রথম দশকে এতেকাফ করেছে, সে যেন শেষ দশকেও এতেকাফ করে। নিশ্চয় উহা আমাকে স্বপ্নে দেখান হয়েছিল। কিন্তু পরে উহা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মনে পড়ে আমি ঐ রাত্রির ফজরে নিজেকে পানি আর কাদার মধ্যে সিজদা করতে দেখেছি।

অতএব, তোমরা উহা শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিতেই তালাশ করবে।

* আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, সেই রাতেই আকাশ ভারিবর্ষণ করল। মসজিদ তখন ছাপরা ছিল, অতএব, ছাদ থেকে পানি পড়ল। তখন আমার দুচোখ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখল, যে তাঁর কপালে পানি ও কাদার দাগ লেগেছে। আর তা ছিল একুশ তারিখের সকাল, তবে আবদুল্লাহ ইবনে উনাইসের বর্ণনায় রয়েছে- তেইশ তারিখের সকাল। (বুখারী ও মুসলিম)
ব্যাখ্যা : উপরোক্ত হাদিসের দ্বারা বুঝা গেল শবে ক্বদর প্রত্যেক বৎসর একই তারিখে হয় না। তবে সকল বর্ণনাকারীর একমত রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে হয়।

* আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি ক্বদরের রাত খুঁজে পাই, তাহলে আমি ওই রাতে কী বলবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন, তুমি বলবে- (আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুব্বুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নী) অর্থ: হে আল্লাহ তুমি অবশ্যই ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা পছন্দ করো, কাজেই আমাকে ক্ষমা করো। (তিরমিযী)
মহিমান্বিত রজনীর নিদর্শনসমূহ : ১. কদরের রাত্রি তিমিরাচ্ছন্ন হবে না। ২. নাতিশীতোষ্ণ হবে। ( না গরম না শীত এমন ) ৩. মৃদু বায়ু প্রবাহিত হবে। ৪. উক্ত রাতে মু'মিনগণ কিয়ামুল লাইল বা ইবাদত করে অন্যান্য রাত অপেক্ষা অধিক তৃপ্তি বোধ করবে। ৫. হয়তো বা আল্লাহ তা'আলা কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে উহা স্বপ্নে দেখাবেন। (দেখুন : ইবনে খুযায়মা, ইবনে হিব্বান, মুসনাদে আহমদ) ৬. ঐ রাতে বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে। (বুখারী) ৭. সকালে হালকা আলোক রশ্নিসহ সূর্যোদয় হবে, পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায়। (মুসলিম)
লাইলাতুল কদর বা কদরের রাতে আমাদের কি কি করণীয় ? :

কুরআন ও হাদীসের আলোকে এ রাতে আমাদের করণীয় হলো :- (১) মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের ভিত্তিতে প্রত্যেক অভিভাবক নিজে রাত জাগবেন এবং পরিবার-পরিজনকে জাগরণে উদ্বুদ্ধ করবেন। (২) সাধ্যানুপাতে তারাবীহ বা তাহাজ্জুদ নামায লম্বা কিরাআত ও লম্বা রুকু সিজদা দ্বারা দীর্ঘক্ষণ যাবৎ আদায় করবেন। সিজদায় তিন বা ততোধিক বার সিজদার তাসবীহ পাঠ করে কুরআন ও হাদীসে উল্লেখিত দু'আসমূহ পাঠ করবেন। এ মর্মে বিশুদ্ধ হাদীসও রয়েছে। অনেকে আবার খুব পেরেশান থাকেন যে, কদরের নামাযের নিয়্যাত কি হবে ? কোন-কোন সূরা দিয়ে নামায পড়তে হবে ? আমাদের ভালভাবে জানা থাকা প্রয়োজন যে, ইশার নামাযের পর থেকে নিয়ে ফযর পর্যন্ত যে নফল নামায পড়া হয়, তাকে বলা হয় কিয়ামুল-লাইল বা তাহাজ্জুদ। অতএব কদরের রাতে ইশার পর থেকে ফযর পর্যন্ত যত নামায পড়া হবে সে গুলোকে নফলও বলা যাবে অথবা তাহাজ্জুদও বলা যাবে। লাইলাতুল কদর উপলক্ষে নামাযের জন্য বিশেষ কোন নিয়্যাত নেই বা অমুক-অমুক সূরা দিয়ে পড়তে হবে এমনও কোন বাধাধরা নিয়ম নেই। (৩) অতীতের করীরা গুনাহ বা বড় পাপের জন্য একনিষ্ঠভাবে তাওবা করবেন ও অধিকরূপে ইস্তেগফার করবেন। (৪) কুরআন মাজীদ পাঠ করবেন। শরীয়াত সম্মত পদ্ধতিতে তথা চুপিসারে, একাকী, রিয়ামুক্ত অবস্থায় যিকির-আযকার করবেন। (৫) পাপ মোচনসহ পার্থিব ও পরকালীন সার্বিক মুক্তি ও কল্যাণের জন্যে বিনয়ী ভাবে একাগ্রচিত্তে দু'আ কবুলের প্রত্যাশা নিয়ে দু'আ করবেন। নিম্নের দু'আ বিশেষভাবে পাঠ করবেন, "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়ুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নী " নিঃসন্দেহে ঐ বরকতপূর্ণ রাতটি যে ব্যক্তি অবহেলায় বা অলসতায় অবমূল্যায়ন করল, এর যথার্থ গুরুত্বারোপ করল না, সে সমূহকল্যাণ থেকে নিজকে বিরত রাখল। প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির উচিত যে, ঐ রাতের যথাযথভাবে হক আদায় করে মহান আল্লাহর পক্ষথেকে কল্যাণ, ফযীলত, বরকত ও আশাতীত সওয়াব লাভে ধন্য হওয়া। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে বেশি-বেশি করে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে লাইলাতুল কদরের ফযীলত অর্জন করে তার নৈকট্য লাভের তাওফীক দান করুন।

রমযানের শেষ দশ দিনের মধ্যে এমন এক রাত আছে যাকে লায়লাতুল কদর এবং “লায়লাতুম মুবারাকাতুন” বলা হয়েছে এবং তাকে এক হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম বলা হয়েছে। কুরআন বলেঃ “ইন্না আনজালনাহু ফী লাইলাতিম মুবারকাতিন – (সূরা আলহাদীদ: ১) মানে “আমরা এ কিতাবকে এক মুবারক রাতে নাযিল করেছি।”

দ্বিতীয় আর এক স্থানে কুরআন বলেঃ “অবশ্যই আমরা এ কুরআনকে ‘লায়লাতুল কদরে’ নাযিল করেছি। তুমি জান, লায়লাতুল কদর কি? তা হচ্ছে এমন এক রাত যা হাজার মাস অপেক্ষাও উৎকৃষ্ট।”- সূরা আল কদর)লায়লাতুল কদরের অর্থঃ কদরের দুটি অর্থএক- নির্ধারণ করা, সময় নির্দিষ্ট করা ও সিদ্ধান্ত করা।অর্থাৎ লায়লাতুল কদর এমন এক রাত যে রাতে আল্লাহ প্রত্যেক বস্তুর সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করেন। তার সময় নির্দিষ্ট করেন এবং হুকুম নাযিল করেন ও প্রত্যেক বস্তুর ভাগ্য নির্ধারণ করেন। “ঐ রাতে সকল বিষয়ের সুষ্ঠু ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় আমাদের নির্দেশক্রমে”-(সূরা দুখান)সূরা আল কদরে আছেঃ “তানাজজালুল মালাইকাতু ওয়ার রুহু ফীহা বিইজনি রব্বিহিম মিনকুল্লি আমর্।-অর্থাৎ “এ রাতে ফেরেশতাগণ এবং বিশেষ করে জিবরাঈল নাযিল হন- যারা তাঁদের রবের নির্দেশে সকল কার্য সম্পাদনের জন্যে নীচে নেমে আসেন।”- (সূরা আল কদরঃ ৪)দুই- কদরের দ্বিতীয় অর্থ মহত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব। অর্থাৎ লায়লাতুল কদর এমন এক রাত আল্লাহর নিকট যার বিরাট মহত্ব ও ফযীলত রয়েছে। তার মর্যাদা ও মহত্বের এ প্রমাণই যথেষ্ট যে, আল্লাহ সে রাতে কুরআনের মতো বিরাট নিয়ামত নাযিল করেছেন। এর চেয়ে বৃহত্তর কোনো নিয়ামত না মানুষ ধারণা করতে পারে আর না কামনা করতে পারে। এ মংগল ও বরকত এবং মহত্ব ও ফযীলতের ভিত্তিতেই কুরআন তাকে এক হাজার মাস (৮৩ বছর কতো মাস হয় কোথায় দেখেছিলাম মনে করতে পারছি না, তবে যাঁরা অংক ভাল জানেন তাঁরা ক্যালকুলেট করতে পারবেন) অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর বলে ঘোষণা করেছে (লাইলাতুল ক্কদরি খইরুম মিন আলফি শাহারঃ আলফ মানে হাজার, শাহার মানে মাস)।লাইলাতুল কদর নির্ধারণ:নিম্নে উল্লেখিত হাদীসগুলো থেকে জানা যায় যে, এ রমযান মাসের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোর মধ্যে কোনো একটি অর্থাৎ ২১শে, ২৩শে, ২৫শে, ২৭শে, অথবা ২৯শে রাত। হযরত আয়েশা (রা) বলেন, নবী (স)বলেছেন- রমযানের শেষ দশ রাতের বেজোড় রাতগুলোর মধ্যে লায়লাতুল কদর তালাশ কর।–(বুখারী)এ রাতকে সুস্পষ্ট করে চিহ্ণিত না করার তাৎপর্য এই যে, রমযানের এ শেষ দশদিনে যাতে করে যিকির ও ইবাদাতের বেশী করে ব্যবস্থাপনা করা যায়।হযরত আয়েশা (রা) বলেন, নবী (স) রমযানের শেষ দশ দিন যিকির ও ইবাদাতের এমন ব্যবস্থা করতেন যা অন্য সময়ে করতেন না।–(মুসলিম)এ রাতে বেশী বেশী নামায- বন্দেগী, যিকির, তাসবিহ ইত্যাদির প্রেরণা দান করে নবী (স) বলেন, যখন লায়লাতুল কদর আসে, তখন জিবরাঈল অন্যান্য ফেরেশতাগণের সাথে যমীনে নেমে আসেন এবং প্রত্যেক ঐ বান্দাহর জন্যে রহমত ও মাগফেরাতের দোয়া করেন যে দাঁড়িয়ে বসে আল্লাহর ইয়াদ ও ইবাদাতে মশগুল থাকে।–(বায়হাকী)নবী (স) আরও বলেন, লোক সকল! তোমাদের মধ্যে এমন এক রাত এসেছে যা হাজার মাস থেকেও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাত থেকে বঞ্চিত রইলো সে সকল প্রকার কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেল এবং এ রাত থেকে সে-ই বঞ্চিত থাকে যে প্রকৃতপক্ষে বঞ্চিত।–(ইবনে মাজাহ)আল-কোরআনে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি লাইলাতুল কদর কোন রাত। তবে কুরআনের ভাষ্য হল লাইলাতুল কদর রমজান মাসে। কিয়ামত পর্যন্ত রমজান মাসে লাইলাতুল কদর অব্যাহত থাকবে। এবং এ রজনী রমজানের শেষ দশকে হবে বলে সহি হাদিসে এসেছে। এবং তা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে হাদিসে এসেছে।تحروا ليلة القدر في العشر الأواخر من رمضان. رواه البخاري রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ কর।" (বর্ণনায়: বোখারি)এবং রমজানের শেষ সাত দিনে লাইলাতুল কদর থাকার সম্ভাবনা অধিকতর। যেমন হাদিসে এসেছে :... فمن كان متحر ﺑﻬا فليتحرها في السبع الأواخر. متفق عليه"যে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করতে চায় সে যেন শেষ সাত দিনে অন্বেষণ করে।" (বর্ণনায়: বোখারি ও মুসলিম)অধিকতর সম্ভাবনার দিক দিয়ে প্রথম হল রমজান মাসের সাতাশ তারিখ। দ্বিতীয় হল পঁচিশ তারিখ। তৃতীয় হল ঊন ত্রিশ তারিখ। চতুর্থ হল একুশ তারিখ। পঞ্চম হল তেইশ তারিখ। আলাহ রাব্বুল আলামিন এ রাতকে গোপন রেখেছেন আমাদের উপর রহম করে। তিনি দেখতে চান এর বরকত ও ফজিলত লাভের জন্য কে কত প্রচেষ্টা চালাতে পারে।লাইলাতুল কদরে আমাদের করণীয় হল বেশি করে দোয়া করা। আয়েশা রা. নবী করিম স.-কে জিজ্ঞেস করলেন, লাইলাতুল কদরে আমি কি দোয়া করতে পারি? তিনি বললেন, বলবে –َالّلهُم إِنَّكَ عَفُوٌّ تٌحِبُّ العَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ . رواه الترمذي"হে আলাহ ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালোবাসেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।" (বর্ণনায় : তিরমিজি)মহিমাময় রজনী লাইলাতুল কদর রমজানের শেষ দশকে অবস্থিত। আলাহ রাব্বুল আলামিন এ রাতকে সকল রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি তার কালামে এ রাতকে প্রশংসার সাথে উলেখ করেছেন। তিনি তাঁর কালাম সম্পর্কে বলতে যেয়ে এরশাদ করেন :اِنَّا َأنْزَْلنَاهُ فِي َليَْلةٍ مُبَارَكةٍ إِنَّا ُ كنَّا مُنْذِرِينَ )٣( فِيهَا يُفْرَقُ ُ كلُّ َأمْرٍ حَكِيمٍ )٤)"আমি তো ইহা অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রজনীতে। আমি তো সতর্ককারী। এ রজনীতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়।" (সূরা আদ-দুখান: ৩-৪)বরকতময় রজনী হল লাইলাতুল কদর। আলাহ তাআলা একে বরকতময় বলে অভিহিত করেছেন। কারণ এ রাতে রয়েছে যেমন বরকত তেমনি কল্যাণ ও তাৎপর্য। বরকতের প্রধান কারণ হল এ রাতে আল-কোরআন নাজিল হয়েছে। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-সিদ্ধান্ত লওহে মাহফুজ থেকে ফেরেশতাদের হাতে অর্পণ করা হয় বাস্তবায়নের জন্য। এ রাতের অপর একটি বৈশিষ্ট্য হল আলাহ তাআলা এ রাত সম্পর্কে একটি পূর্ণ সূরা অবতীর্ণ করেছেন। যা কিয়ামত পর্যন্ত পঠিত হতে থাকবে।إِنَّا َأنْزَْلنَاهُ فِي َليَْلةِ الَْقدْرِ ﴿١﴾ وَمَا َأدْرَاكَ مَا َليَْلةُ الَْقدْرِ ﴿٢﴾ َليَْلةُ الَْقدْرِ خَيْرٌ مِنْ َألْفِ شَهْرٍ ﴿٣﴾ تَنَزَّلُ الْمَلَائِ َ كةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ ُ كلِّ َأمْرٍ ﴿٤﴾ سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطَْلعِ اْلَفجْرِ ﴿٥﴾ القدر"নিশ্চয় আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি এক মহিমান্বিত রজনীতে। আর মহিমান্বিত রজনী সম্পর্কে তুমি কী জান ? মহিমান্বিত রজনী সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতেই ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, সে রজনী উষার আবির্ভাব পর্যন্ত। (সূরা আল-কদর)এ সুরাতে যে সকল বিষয় জানা গেল তা হল :(১) এ রাত এমন এক রজনী যাতে মানবজাতির হেদায়াতের আলোকবর্তিকা মহা গ্রন্থ আল-কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। (২) এ রজনী হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ তিরাশি বছরের চেয়েও এর মূল্য বেশি।(৩) এ রাতে ফেরেশতাগণ রহমত, বরকত ও কল্যাণ নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করে থাকে।(৪) এ রজনী শান্তির রজনী। আলাহর বান্দারা এ রাতে জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে শান্তি অর্জন করে থাকে।(৫) সময়ের প্রতি গুরুত্ব দেয়া। এ আয়াতগুলোতে অল্প সময়ে বেশি কাজ করার জন্য উৎসাহ প্রদান করা হল। যত সময় বেশি তত বেশি কাজ করতে হবে। সময় নষ্ট করা চলবে না।(৬) গুনাহ ও পাপ থেকে ক্ষমা লাভ। এ রাতের এই ফজিলত সম্পর্কে বোখারি ও মুসলিম বর্ণিত হাদিসে এসেছে –إن النبي (ص) قال : من قام ليلة القدر إيمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه. رواه البخاري ومسلم

নবী করিম (স) বলেছেন : যে লাইলাতুল কদরে ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে সালাত আদায় ও ইবাদত-বন্দেগি করবে তার অতীতের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বর্ণনায় : বোখারি ও মুসলিম)
Source: http://muktoblog.net

Tuesday, August 16, 2011

রমযানের শেষ দশক হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তির

রমযানের শেষ দশক হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তির

॥ এম. মুহাম্মদ আবদুল গাফফার॥
বছর ঘুরে আমাদের সামনে আবারো মাহে রমযান উপস্থিত। এ মাসটি দু’টি কারণে গৌরবময় হয়ে রয়েছে। একটি হলো মুসলিম জাতির চির ঐতিহ্য সিয়াম সাধনার মহাব্রত নিয়ে উপস্থিত হয় মুসলমানদের দ্বারে। এ মর্মে মহান রাব্বুল আলামীন ঘোষণা করেন ইয়া আইয়্যূহাল্লাজিনা আমানু কুতিবা আলাইকুমুস সিয়ামু কামা কুতিবা আলাল্লাজিনা মিন ক্বাবলিকুম লা আল্লাকুম তাত্তাকুন- অর্থাৎ হে বিশ্বাসীগণ শোন! তোমাদের ওপর সিয়ামকে অবধারিত (ফরয) করা হয়েছে যেমনটি করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর (এ জন্য যে) সম্ভবত তোমরা তাকওয়া অর্থাৎ আল্লাহভীতি অর্জন করতে পারবে (সূরা আল বাকারা, আয়াত নং-১৮৩)। উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সিয়াম বা রোজাকে মানব সৃষ্টির পর থেকেই তাদের ওপর করণীয় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। দিন ও কালের ভিন্নতা একেক সময় একেক রকম অবশ্যই ছিল। যেমন রমযান মাসের রোজা ফরয হবার আগে মহরমের রোজা কোনো কোনো নবীর উম্মতগণ পালন করতেন। বর্ণিত আছে যে, হযরত আদম (আ.) প্রতি চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে সিয়াম পালন করতেন। যাকে বর্তমানে আইয়্যামে বেজের রোজা বলা হয়ে থাকে। মাহে রমযানের সিয়াম বা রোজা ফরয হবার পর ঐ সমস্ত রোজা নফল হিসেবে গণ্য হয়েছে।

সিয়াম বা রোজাব্রতের পালনীয় বিষয় হলো দীর্ঘ একমাস প্রতিদিন সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, যৌন সম্ভোগ নিষিদ্ধ ও রাত্রে আরাম আয়েশ উপভোগকে সীমিত রাখা। মূলত এ সমস্ত বিষয় মানুষের জন্য অবৈধ কিছু নয়। কিন্তু এগুলো যখন সমাজে মাত্রারিক্তভাবে চালু হয় এবং বৈধতার সীমা ছড়িয়ে যায় তখনই কেবল সমাজে নানারূপ বিশৃঙ্খলা, হানাহানি, খুনাখুনিসহ সব রকম অশান্তির সৃষ্টি হয়।

সৃষ্টির আদি থেকে মানব সমাজে যে তিনটি বিষয়, বিপর্যয় সংঘটনের জন্য দায়ী তাহলো উদরপূর্তি বা ভোগ বিলাস, নারী সম্ভোগ ও অতি আরাম লাভের আশায় উচ্চাভিলাষী মনোবৃত্তি পোষণ। লাগামহীনভাবে যদি এগুলো চরিতার্থ করার মানসিকতা গড়ে ওঠে তাহলে অন্যের অধিকারকে খর্ব করার প্রশ্ন চলে আসে আর এ ক্ষেত্রে মানুষ ন্যায়নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও দায়িত্ববোধের গণ্ডি থেকে বেড়িয়ে এসে এহেন অপকর্ম নেই যা করতে সে দ্বিধাগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে সমাজে মারামারি, হানাহানি, যুদ্ধবিগ্রহ, হত্যা, সন্ত্রাস, অশ্লীলতা ও সব রকম অন্যায় তথা অপকর্মের তাণ্ডবে শান্তিময় মাটির পৃথিবী অসহনীয় অগ্নিগর্ভে রূপান্তরিত হয়। সহজ কথায় বলা যায়, মানবতা বিবর্জিত এমন একটি অসভ্য সমাজ কাঠামো তৈরি হয় যা পশু সমাজের চেয়েও জঘন্যতম। পবিত্র কুরআনুল কারীমের ভাষায় যাকে এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ইনহুম ইল্লা কালআনআম বালহুম আদাল্লু সাবিলা। অর্থাৎ নিশ্চয়ই ওরা হলো জন্তু জানোয়ার বরং তার চেয়েও গোমরাহ বা ভ্রান্তপথ অনুসারী। এ সমস্ত মানবতা বিধ্বংসী পঙ্কিলতার করালগ্রাস থেকে রক্ষা পেতে হলে প্রয়োজন আল্লাহভীতি তথা আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার হুকুমের নিঃশর্ত তাবেদারী। রমযানের সিয়াম সাধনা মানুষকে মহান রাব্বুল আলামীনের দেয়া আইনের মধ্য থেকে জীবনের যাবতীয় কার্যাদি সম্পন্নের শিক্ষা দান করে থাকে। মাহে রমযানে যে রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে দিবাভাগে যাবতীয় হালাল পানাহার যৌনবৃত্তি তথা কামনা বাসনা চরিতার্থ থেকে বিরত এবং রাত্রিতে দেহমনের তৃপ্তি মেটানোর মত নিদ্রা থেকে দূরে থাকতে হয় সেই আল্লাহ সুবহানাহু তায়লার নির্দেশেই যাবতীয় অন্যায়, জুলুম, অত্যাচার, আল্লাহদ্রোহী কার্যক্রম ও অন্যের অধিকার হরণ থেকে বিরত থাকাটাই হলো সিয়াম সাধনার মূল প্রশিক্ষণ। এছাড়া নিছক পানাহার থেকে বিরত থেকে কষ্ট করার মধ্যে খুব বেশি সফলতা নেই। এ মর্মে মহানগরী (সা.)’র একটি হাদিস এভাবে বর্ণিত হয়েছে- মানলাম ইয়াদিউ কাওলাজযুর ওয়াল আমালবিহী লাইসালিল্লাহি হাজাতুন ফি আই ইয়াদয়া তা’য়ামাহু ওয়া শারাবাহু অর্থাৎ (রোজা রেখে) কেউ যদি মিথ্যা কথা বলা ও তদনুযায়ী কাজ করা পরিত্যাগ না করে তবে তার শুধু খাদ্য ও পানীয় পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। মানুষের লাগামহীন অন্যায় কামনা বাসনা দমন করে নিজের যাবতীয় ইচ্ছা ও কার্যক্রমকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পন্ন করাই হলো সিয়ামসহ সকল ইবাদতের আসল লক্ষ্য। এছাড়া নিজের খেয়ালখুশী ও প্রচলিত চিন্তা-চেতনা অনুযায়ী পরিচালনা তথা সম্পন্ন করা আল্লাহ সবুহানাহু তায়ালার বিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী বৈ কিছু নয়। এ প্রসঙ্গে মহান রাব্বুল আলামীন ঘোষণা করেন তারাইতা মানাত্তাখাজা ইলাহাহু হাওয়াহু আকাআনতা তাকুনু আলাইহি ওয়াকিলা অর্থাৎ (হে রাসূল) তুমি কি কখনো চিন্তা করেছো যারা নিজের মনের বাসনা লালসাকে আপন ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে এরূপ ব্যক্তিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব তুমি কিভাবে নিতে পার (আল কুরআন)। পবিত্র কুরআন হাদিসের দৃষ্টিতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার ইচ্ছাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য ও একমাত্র সংবিধান হিসেবে মেনে নিয়ে মানব সমাজে তা বাস্তবায়নের শপথ গ্রহণই হলো রমযান মাসের আসল শিক্ষা। এ জন্যই রমযানের সিয়াম সাধনাকারীর প্রকৃত সম্পর্ক অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি সিয়াম পালনকারী তা সরাসরি আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার সাথে সম্পর্কিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাদিসে কুদসীতে বর্ণনা করা হয়েছে, মহান রাব্বুল আলামীন ঘোষণা করেন আসসাওমূলী ওয়া আনা আজিজিবিহি অর্থাৎ রোজা আমার জন্যই আর আমি এর পুরস্কার দান করবো (সহীহ আল বুখারী)। এ থেকে বোঝা যায় যে, বিশ্ব প্রভু মানব জাতিকে যে খিলাফাতের দায়িত্ব দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তার যথার্থ প্রশিক্ষণ রমযানুল মুবারকের সিয়াম সাধনায় নিহিত রয়েছে। রমযানুল মুবারক দ্বিতীয় যে কারণটির জন্য গৌরবের অধিকারী তাহলো এ মাসেই সর্বশেষ আসমানী কিতাব পবিত্র কুরআনুল কারীম নাযিল হয়েছিল। আর এই অবিকৃত তথা অসাধারণ গ্রন্থখানা হলো বিশ্বজাহান পরিচালনার একমাত্র আল্লাহ প্রদত্ত আইন বা জীবন বিধান। এ মর্মে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ঘোষণা করেন শাহরু রামাদানাল্লাজি উনযিলা ফি হিল কুরআন, হুদাললিন্নাসি ও বাইয়্যেনাতি মিনাল হুদা ওয়াল ফুরক্বান ..... অর্থাৎ এ রমযান মাসে পবিত্র কুরআনুল কারীমকে অবতীর্ণ করা হয়েছে যা মানুষের জন্য পথনির্দেশক এবং উজ্জ্বল হিদায়েত ও সত্য এবং মিথ্যার পার্থক্যকারী (আল কুরআন সূরা আল বাকারা)। পবিত্র কুরআনুল কারীম নাযিল হবার পর বিশ্বে যে বিপ্লব শুরু হয় তা ছিল বিশ্ব সভ্যতার এক অতুলনীয় মাইলফলক। বিশ্বের শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্ঞান চর্চা, দর্শন, আধ্যাত্মিকতা, সামাজিকতা, বিচারব্যবস্থা, নৈতিকতা ও প্রশাসনের সার্বিক দিকসমূহের যে আমূল পরিবর্তন হয় তার নজির কোথাও নেই।

মহানবী (সা.)র হাদিস থেকে জানা যায় যে, রমযানুল মুবারকের তিনটি দশককে তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যে বিভূষিত করা হয়েছে। আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন, আউয়ালুহু রাহমাতুন ওয়া আওসাতুহু মাগফেরাতুন ওয়া আখেরুহু ইত্কুন মিনান্নারি অর্থাৎ রমযানের প্রথম (দশক) রহমতের দ্বিতীয় (দশক) মাগফিরাতির ও তৃতীয় বা শেষ (দশক) হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তির। রমযানুল মুবারকের তৃতীয় বা শেষ দশকটা অত্যন্ত তাৎপর্যময় রমযানুল মুবারকের এ শেষ দশকেই লাইলাতুল ক্বদর অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। যে রাত্রি সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ঘোষণা করেন লাইলাতুল ক্বাদরে খায়রুম মিন আলফি শাহর অর্থাৎ লাইলাতুল ক্বদরের রজনী হাজার মাসের রাত্রির চেয়েও উত্তম (আল কুরআন, সূরা ক্বদর)। উক্ত রজনীর ফাযায়েল সম্পর্কে হাদিস গ্রন্থসমূহে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। যেমন এ মর্মে মহানবী (সা.) বলেন, আন আবিহুরায় রাতা (রা.) ক্বয়ালা ক্বূয়ালা মান ক্বমা লাইলাতুল ক্বাদরে ঈমানাও ওয়া ইহতেছাবাও গুফিরালাহু মা তাকাদ্দামা মিন জান্বিহী অর্থাৎ হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সা.) ইরশাদ করেন যে ব্যক্তি লাইলাতুল ক্বদরের রজনীতে ঈমান ও ইহতেছাবের সাথে দণ্ডায়মান অর্থাৎ ইবাদতে মশগুল থাকবে তার অতীত জীবনের সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (সহীহ আল বুখারী)। এই লাইলাতুল ক্বদরের এত মর্যাদা এ কারণেই যে এ রাত্রে মহান রাব্বুল আলামীন বিশ্ব পরিচালনার জন্য তার অলঙ্ঘনীয় সংবিধান মহাগ্রন্থ আল কুরআন রমযান মাসে এ রাত্রেই অবতীর্ণের ধারাবাহিকতা শুরু হয়। এ মর্মে মহান রাব্বুল আলামীন ঘোষণা করেন ওয়াল কিতাবিল মুবীন। ইন্না আনযালনাহু ফি লাইলাতিম মুবারা কাতিন ইন্না কুন্না মুনযিরীন অর্থাৎ শপথ এই সুস্পষ্ট প্রকাশকারী কিতাবের, আমি উহাকে এক বড় কল্যাণময় ও গুরুত্বপূর্ণ রাতে নাযিল করেছি কেননা আমি মানুষকে ভয় বা সাবধান করবার ইচ্ছা করেছিলাম (সূরা দুখান, আয়াত নং-২ ও ৩)। অনেকের মতে পবিত্র কুরআনুল কারীম ক্বদরের রজনীতে লাওহু মাইফজ থেকে একযোগে প্রথম আসমানে নাযিল হয়। যা হোক লাইলাতুল ক্বদরের বরকতময় রাত্রে যে কুরআনুল কারীমের অংশবিশেষ রাসূল (সা.)র ওপর ওয়াহী আকারে নাযিল শুরু হয় তা সুনিশ্চিতভাবেই বলা যায়। আল কুরআনের অপরিসীম গুরুত্বের কারণেই মূলত লাইলাতুল ক্বদরের এত মর্যাদা।

রমযানুল মুবারকের শেষ দশকেই যে, হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রজনী লাইলাতুল ক্বদরের উপস্থিতি এ কথা হাদিস গ্রন্থের নির্ভরযোগ্য বর্ণনাসমূহ থেকে জানা যায়। এ ক্ষেত্রে বিশিষ্ট সাহাবী হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) আয়েশা (রা.) ইবনে ওমর (রা.), আবু হুরায়রা (রা.) ও আবু সাঈদ (রা.)সহ বহু সংখ্যক বর্ণনাকারীর নিকট থেকে সিহাহ সিত্তার হাদীিস সম্ভারে বর্ণনা উৎকলিত রয়েছে। যেমন আন আয়েশাতা (রা.) আন্না রাসূলুল্লাহ (সা.) ক্বয়ালা তাহাররাও লাইলাতাল ক্বাদরে ফিল বিতরে মিনাল আশরিল আওয়াখিরি মিন রামাদান অর্থাৎ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা লাইলাতুল ক্বদরকে রমযানের শেষ দশদিনের বেজোড় রজনীতে তালাশ কর (সহীহ আবু বুখারী)।

অন্য হাদিস, এভাবে এসেছে আন ইবনে আব্বাস (রা.) আন্নাননাবী (সা.) ক্বয়ালা ইতামিসুহলা ফিল আশরিল আওয়াখিরি ফি রামাদানা লাইলাতুল ক্বাদরে ফি তাসিয়াতিন তাব্কী ফি সাবিয়াতি তুবকা ফি খামিছাতি তাব্কা অর্থাৎ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন তোমরা লাইলাতুল ক্বদরকে রমযানের শেষ দশ রজনীতে খোঁজ কর। লাইলাতুল ক্বদর এসব রাত্রিতে আছে- যখন রমযানের ৯, ৭, ৫, রাত বাকি থাকে (সহীত আল বুখারী)। এভাবে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আরো বর্ণনা এভাবে রয়েছে ক্বয়ালা রাসূলুল্লাহ (সা.) হিয়া ফিল আশরিল আওয়াখিরি ফি তিছয়ী ইয়াবক্বিনা আওফিতিছয়ী ইয়াক্বিনা ইয়ানী লাইলাতুল ক্বাদরে (অর্থাৎ রাসূল (সা.) বলেছেন, লাইলাতুল ক্বদর শেষ দশ রাত্রে আছে। যখন নয় রাত অতীত হয়ে যায় কিংবা সাত রাত বাকি থাকে অর্থাৎ ২৯ ও ২৭ তারিখে) এ সমস্ত বর্ণনা থেকে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, লাইলাতুল ক্বদর মাহে রমযানের শেষ দশকের যে কোনো বিজোড় রাতে রয়েছে। ঐ মহাবরকতময় রাত্রিকে সুনির্দিষ্ট করে না দেয়ার যে কারণ উল্লেখ করা যেতে পারে তাহলো অতিপ্রিয় বিষয় অর্জন করার জন্য আনুগত্যশীল বান্দাগণ যেন অতি আন্তরিকতার সাথে শ্রম সাধনায় আত্মনিয়োগ করে এবং আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালাকে খুশী করার জন্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে তার বন্দেগি তথা ধ্যান খেয়ালে মগ্ন হয়ে পড়ে। রমযানুল মুবারকের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ইবাদত হলো শেষ দশকে ই’তেকাফ করা। মানুষকে একদিন পৃথিবীর যাবতীয় কর্মকাণ্ড ও মোহ ত্যাগ করে ক্ববরে তথা আল্লাহর সন্নিধ্যে উপনীত হতে হবে। সেখানে মানুষের নেক আমল ভিন্ন অন্য কিছুই সঙ্গী হবে না। মানুষকে চিরদিনের জন্য যে রাব্বুল আলামীনের নিকট চলে যেতে হবে পার্থিব জীবনেও কিছুদিনের জন্য হলেও চলমান জীবনের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা ত্যাগ করে আল্লাহর ঘরে অবস্থান করে তাকে সর্বান্তকরণে আপন করে নিয়ে তাঁরই স্মরণ ও তাসবিহ এবং সালাতের মাধ্যমে অতিবাহিত করার গুরুত্ব কোনো অংশেই কম নয়। মূলত মসজিদে শেষ দশকের এ ই’তেক্বাফ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবে লাইলাতুল ক্বদরকে অর্জন করা। এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা.)র বহুসংখ্যক হাদিস বিখ্যাত সাহাবী (রা.)গণের নিকট থেকে বর্ণিত আছে। যেমন আন আয়েশাতা (রা.) আন্নানাবী (সা.) কানা ইয়াতাকিফুল আশরুল আওয়াখিরুমিন রামাদানা হাত্তা তাওফ্ফাহুল্লাহু ... অর্থাৎ নবী পতœী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী (সা.) রমযানের শেষ দশদিনে ই’তেকাফে বসতেন। এমনকি এভাবেই তাকে আল্লাহ উঠিয়ে নিলেন এভাবে হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে একটি দীর্ঘ হাদিসের অংশবিশেষ উল্লেখ করা যেতে পারে- ক্বয়ালা মান কানা ই’তেকাফ মিয়ীয়া ফালইয়াতিকিফাল উয়াশারাল আওয়াখিরা অক্বাদ উরিয়িতু হাজিহীল লাইলাতা অর্থাৎ মহানবী (সা.) বলেন যে, আমার সাথে (মধ্য রমযানে) ই’তেকাফ করেছে সে যেন শেষ দশদিনে ই’তেকাফ করে, কেননা, এই ক্বদরের রাত আমাকে দেখানো হয়েছে, (সহীহ আল বুখারী)। এসব বর্ণনা থেকে বুঝা যায় যে, লাইলাতুল ক্বদরের পুণ্যময় রজনীর ফায়দা হাসিলের জন্যও ই’তেকাফ অন্যতম উদ্দেশ্য। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের এই অতুলনীয় বরকতময় রজনীর সওয়াব অর্জনসহ রমযানুল মুবারকের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী জীবন যাপনের তাওফিক দান করুন। আমীন।

Source: /www.weeklysonarbangla.net